খেলাধুলা

সালমানের ভুলে বিপদ: সূর্যকুমারের নকল, ম্যাচ ফি পৌঁছালো জঙ্গিদের হাতে

গ্রুপ পর্ব ও সুপার ফোরের পর ফাইনালেও ভারতের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারল না পাকিস্তান। তবে ১৪ ও ২১ তারিখের মতো একপেশে ম্যাচ হয়নি। ফাহিম আশরাফ ও শাহীন শাহ আফ্রিদিদের লড়াই সত্ত্বেও ১৪৬ রানের টার্গেট রক্ষা করা গেল না। চাপের মুখে পাহাড় হয়ে দাঁড়ালেন হায়দ্রাবাদের তরুণ বাঁহাতি তিলক বর্মা। তাঁর ৫৩ বলে অপরাজিত ৬৯ রানের ইনিংস ভারতকে নবম এশিয়া কাপ এনে দেয়। সঞ্জু স্যামসন (২৪), শিবম দুবে (৩৩) গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। চোটগ্রস্ত হার্দিক পান্ডিয়ার জায়গায় একাদশে আসা রিঙ্কু সিং মারেন জয়সূচক বাউন্ডারি।

কিন্তু মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে আলোচনায় বেশি জায়গা করে নিল বিতর্ক। শুরু থেকেই এশিয়া কাপ ২০২৫-কে ঘিরে তাড়া করে বেরিয়েছে রাজনৈতিক অশান্তির ছায়া। পহলগাম হামলা ও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর আয়োজন নিয়ে সংশয় ছিল প্রবল। খেলা শুরু হতেই ভারত–পাকিস্তান শীতল সম্পর্ক পৌঁছয় তীব্র পর্যায়ে। গ্রুপ ম্যাচ শেষে ভারতীয় তারকারা পাক ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানান। সুপার ফোরে হারিস রউফের উসকানিমূলক ৬–০ ইঙ্গিত নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছয়। সাহিবজাদা ফারহানের সেলিব্রেশন নিয়েও বাড়ে বিতর্ক।

ফাইনালে বিতর্কে আরও ঘি ঢালে এসিসি প্রধান ও পিসিবি চেয়ারম্যান তথা পাক মন্ত্রী মহসীন নকভি। তাঁর হাত থেকে ট্রফি না নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটাররা সরাসরি মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান। ঘটনাটি ঘিরে দেশ–বিদেশে প্রশ্ন উঠেছে। আগুনে ঘি ঢেলেছেন পাক অধিনায়ক সলমন আলি আঘা। ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব যেখানে নিজের সম্পূর্ণ ম্যাচ ফি দান করেছেন পহলগাম হামলায় নিহতদের পরিবার ও ভারতীয় সেনার জন্য, সেখানে পালটা সলমন ঘোষণা করেছেন, তিনি দান করছেন ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ নিহত পাকিস্তানিদের জন্য। ভারতীয় সেনার অভিযানে ধ্বংস হওয়া যে জায়গাগুলি সন্ত্রাসবাদীদের লঞ্চপ্যাড হিসেবে পরিচিত, সেখানে অর্থসাহায্য দেওয়া মানে সরাসরি জঙ্গিদের অর্থপুষ্টি—এই প্রশ্নই এখন তুলছে আন্তর্জাতিক মহল।

এশিয়া কাপ ফাইনালে হারের পর আত্মসমালোচনার বদলে ভারতকে দোষারোপ করায় আরও সমালোচনার মুখে সলমন। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, “ভারতীয়রা আমাদের সঙ্গে হাত মেলাতে রাজি হয়নি, ট্রফি নেওয়ার সময় অসম্মানজনক আচরণ করেছে। এটা কেবল পাকিস্তানের অপমান নয়, ক্রিকেটেরও অপমান।”

একই টুর্নামেন্টে একই প্রতিপক্ষের কাছে তিনবার হারের অপ্রিয় রেকর্ড এখন সলমন আলি আঘার দখলে। পাকিস্তানি সমর্থকদের হতাশা চরমে। মাঠে হারের সঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্কে জর্জরিত হয়ে পড়েছে পুরো টুর্নামেন্ট।

ভারতের হাতে নবম এশিয়া কাপ, পাকিস্তানের হাতে বিতর্ক আর লজ্জা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.