চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মঞ্চে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান নামছে আত্মবিশ্বাস আর দুশ্চিন্তার মিশেলে। একদিকে মোহাম্মদ রিজওয়ানের দুরন্ত ফর্ম, অন্যদিকে বোলিং আক্রমণের দুর্বলতা তাদের শিরোপা ধরে রাখার পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বড় ধাক্কা লেগেছে ওপেনিংয়ে, কারণ দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সাইম আয়ুব চোটের কারণে ছিটকে গেছেন। এই ঘাটতি মেটাতে ফখর জামান ও বাবর আজমকে ওপেনিংয়ে পাঠানো হয়েছে, তবে নিচের দিকের ব্যাটিং লাইনআপে দুর্বলতা রয়ে গেছে। নতুনভাবে দলে ফিরেছেন খুশদিল শাহ ও ফাহিম আশরাফ, কিন্তু তারা আদৌ চাপ সামলাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা পাকিস্তানের বোলিং। সাম্প্রতিক ত্রিদেশীয় সিরিজে তাদের পেস আক্রমণ ধারহীন লেগেছে, আর স্পিন বিভাগেও নির্ভরযোগ্যতা নেই। একমাত্র বিশেষজ্ঞ স্পিনার আছেন আব্রার আহমেদ, কিন্তু দুবাইয়ের স্পিন-বান্ধব উইকেটে অতিরিক্ত স্পিন বিকল্প না থাকাটা পাকিস্তানের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। পার্ট-টাইম স্পিনার খুশদিল শাহ ও সালমান আলি আগার উপর ভরসা রাখতে হবে, যা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
তবে সাম্প্রতিক ফর্ম আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। গত বছর অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকায় সিরিজ জিতেছে পাকিস্তান, যেখানে তারা মাত্র দুটি ম্যাচ হেরেছে। তবে দেশের মাটিতে সাম্প্রতিক ত্রিদেশীয় সিরিজে নিউজিল্যান্ডের কাছে দুইবার বড় ব্যবধানে হার তাদের দুর্বলতা উন্মোচিত করেছে।
গ্রুপ-পর্বে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড (১৯ ফেব্রুয়ারি), ভারত (২৩ ফেব্রুয়ারি) ও বাংলাদেশ (২৭ ফেব্রুয়ারি)। প্রথম ম্যাচেই কঠিন চ্যালেঞ্জ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, যাদের কাছে তারা সম্প্রতি পরাজিত হয়েছে।
২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়, তার আগে একবারও ফাইনালে না পৌঁছানো পাকিস্তান এবার কি নিজেদের মেলে ধরতে পারবে? নাকি রিজওয়ানের একার লড়াই যথেষ্ট হবে না? উত্তরের জন্য অপেক্ষা দুবাইয়ের মরুভূমির লড়াইয়ে!







