পহেলগাঁওয়ের মাটিতে ২২ এপ্রিল ২৬ জন ভারতীয়ের ধর্ম হিন্দু হওয়ায় তাঁদের গুলি করে মারে লস্কর-ই-তইবার জঙ্গিরা। সেই ঘটনা সূত্রেই এতদিন নীরবে প্রস্তুতি নিচ্ছিল ভারত। ৭ মে ভোররাতে নীরবতা কাটিয়ে পাল্টা জবাব দেয় ভারত। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাহাওয়ালপুরে জইশ-এর সদর দফতর ও মুরিদকেতে লস্কর-এর মূল ঘাঁটি সহ মোট ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছেন,”এই হামলা ছিল নির্ভুল, নির্দিষ্ট ও সীমিত।” কিন্তু বার্তা ছিল বিস্ফোরণের চেয়েও জোরালো-রক্ত ঝরালে রেহাই নেই। তাঁরা আরও জানান,”পহেলগাঁওয়ের বর্বর হামলার নেপথ্যে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এটা ভারতের প্রতিশ্রুতি, যা আমরা রেখেছি। দেশের রক্তে কেউ হাত দিলে, তার মূল্য দিতে হবে!”
আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিক্রিয়া যা ছিল, সেগুলি হল –
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন,”লজ্জার বিষয়… ওরা দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছে। আশা করি, খুব শীঘ্রই থেমে যাবে।” মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে কথা বলেন ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশা প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন যে ভারতের অধিকার ছিল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার। পাকিস্তান যেন এই মুহূর্তে পাল্টা হামলার পরিকল্পনা না করে, সে বিষয়েও পাকিস্তানকে সতর্ক করেছেন মার্কো রুবিও।
চিন: চিনের বিদেশ মন্ত্রক দুই দেশের প্রতি “সংযম প্রদর্শন” করার আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু এই মন্তব্যে ভারতীয় কূটনীতিকরা মনে করছেন, চিনের বক্তব্য প্রভাবহীন। কারণ তারা জঙ্গিদের আশ্রয়দাতা পাকিস্তানকে একবারও দোষারোপ করেননি।
ইজরায়েল: সরাসরি ভারতের পাশে দাঁড়াতে দেখা গেল ইজরায়েল-কে। রাষ্ট্রদূত রেউভেন আজার বলেন,”সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই। ভারতের আত্মরক্ষার অধিকারকে আমরা সমর্থন করি।”
রাষ্ট্রসংঘ: মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস-এর মুখপাত্র জানিয়েছেন,”এই সংঘর্ষ আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য হুমকি।” ভারত ও পাকিস্তান-কে সর্বোচ্চ সংযমের পথে হাঁটতে বলেছেন তারা।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE): UAE-ও কূটনৈতিকভাবে ভারত-পাক উভয় পক্ষকেই সংযম ও আলোচনা সাপেক্ষে উষ্ণতা কমানোর কথা বলেছেন।







