রাজ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হলদিয়া ও আসানসোলের পর এবার নজর এলো বীরভূমের শিল্পাঞ্চলের দিকে। রাজ্যের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সরাসরি এই এলাকায় নজরদারি বাড়াচ্ছে, যা রাজনীতিতে নতুন সঙ্কেত দিচ্ছে। গঠিত হয়েছে বীরভূমের শিল্পাঞ্চলের জন্য একটি নতুন কোর কমিটি, যার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই সিদ্ধান্তের পর প্রশ্ন উঠছে—স্থানীয় নেতৃত্বের ক্ষমতা কি সরানো হচ্ছে?
পশ্চিম বর্ধমানের আইএনটিটিইউসি সভাপতি অভিজিৎ ঘটক যদিও জেলা সংগঠনের সভাপতি পদে রয়েছেন, তবে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল কোর কমিটিতে তার নাম নেই। অভিজিৎ ঘটক তৃণমূলের জনপ্রিয় স্থানীয় নেতা হলেও এবার তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়নি। উল্লেখযোগ্য, তিনি বিধায়ক মলয় ঘটকের ভাই। আসানসোল অঞ্চলে কয়লা খনি সংক্রান্ত বিতর্ক ও কয়লা কেলেঙ্কারিতে নাম আসার ফলে সেখানে তৃণমূলের বিরুদ্ধে চাপ বেড়েছে। মলয় ঘটকও একাধিকবার কেন্দ্রীয় সংস্থার তলবের মুখে পড়েছেন। ফলে আসানসোলের রাজনীতিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কড়া নজর চোখে পড়ছে।
অন্যদিকে তমলুক শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ হলদিয়ায় শ্রমিক শাখার জেলা সভাপতি কমিটিতে নেই। তমলুক ও দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের জন্য আলাদা আলাদা কোর কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে পূর্বের জেলা কমিটির ক্ষমতা সীমিত হয়েছে। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল কোর কমিটিতে মানস অধিকারী, রাজেশ কোনারসহ কয়েকজন নতুন সদস্য রয়েছেন। তমলুক শিল্পাঞ্চলের কোর কমিটিতে আছেন আস্তিক চট্টোপাধ্যায় ও প্রদীপ দে।
গত সোমবার উত্তরবঙ্গে শিল্প নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক করেন। তার পরই এই পদক্ষেপের ঘোষণা আসে। এটা স্পষ্ট যে, শিল্পাঞ্চলের স্থানীয় নেতাদের দাদাগিরি রোধ করতেই রাজ্য নেতৃত্ব এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। বীরভূম মডেল হিসেবে এই কোর কমিটি রাজ্যের শিল্পাঞ্চলে নতুন রাজনৈতিক মানচিত্রের সূচনা করতে পারে।







