কলকাতা হাই কোর্টের বিশেষ বেঞ্চের জারি করা রুল নোটিস হাতে পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। নারকেলডাঙা থানার মাধ্যমে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কেন তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বা তাঁকে কারাবন্দি করা হবে না, সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
এই মামলার প্রেক্ষাপটে আগামী ১৬ ই জুন বেলা ১২:৩০ টায় তাঁকে কলকাতা হাই কোর্টের তিন বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চের সামনে সশরীরে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি প্রাঙ্গণ ত্যাগ করতে পারবেন না। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরাসরি আদালত প্রাঙ্গণ থেকেই তাঁকে কারাগারে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত এসএলএসটি-র শারীরশিক্ষা ও কর্মশিক্ষা বিভাগের পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ঘিরে। হাই কোর্ট চত্বরে ওই বিক্ষোভ চলাকালীন আদালত অবমাননার অভিযোগ ওঠে। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করে। বিক্ষোভে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি কুণাল ঘোষের । তাঁর আইনজীবীরা জানান, কুণাল ঘোষের হলফনামা জমা দিতে দেরি হয়েছে কারণ পুলিশের রিপোর্ট আগের রাতে হাতে পেয়েছেন তাঁরা, যা হলফনামায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
তবে আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল এই মামলার কোনও পক্ষই এখনও জবাবি হলফনামা জমা দেননি। সেই প্রেক্ষিতেই সকলের বিরুদ্ধে রুল জারি করা হয়েছে। এখন সেই রুল নোটিস পৌঁছেছে কুণাল ঘোষের হাতে।
এদিকে, এই মামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও চরমে। কুণাল ঘোষ এই মামলার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দেখছেন। তাঁর অভিযোগ, বাম, বিজেপি ও কংগ্রেস – তিন দলই এই মামলা নিয়ে রাজনীতি করছে এবং তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
এখন দেখার, ১৬ জুনের শুনানিতে কী অবস্থান নেন কুণাল ঘোষ এবং আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়।







