চেন্নাইয়ের এক সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবার মান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে। ৬ জুনের এই ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, সেদিন ক্রিকেট খেলতে গিয়ে গুরুতর পায়ে চোট পান ৪২ বছরের সি অঙ্গেশ্বরন নামের এক ব্যবসায়ী। তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে ভর্তি করা হয় শহরের একটি সরকারি হাসপাতালে।
হাসপাতালে পৌঁছনোর পর রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা করার জন্য চিকিৎসক বা নার্সের দেখা না মেলায় আশেপাশের লোকজন হতবাক হয়ে যান। তখনই দেখা যায়, একজন মহিলা সাফাইকর্মী, যাঁর চিকিৎসা বিষয়ক কোনও যোগ্যতা নেই, তিনিই হাতে গ্লাভস পরে রোগীর ক্ষতের চিকিৎসা শুরু করেন। উপস্থিত কর্মীদের মধ্যে কেউ তাঁকে বাধাও দেননি। বরং পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়, চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কর্মীদের সময়মতো পাওয়া যায়নি।
বিভিন্ন মহলের মতে, এটা কেবল গাফিলতি নয়, বরং রোগীর জীবনের সঙ্গে খেলা। চিকিৎসাব্যবস্থার এই চেহারা দেখে বহু মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, “যদি সাফাইকর্মীই চিকিৎসা করতে হয়, তাহলে ডাক্তাররা রয়েছেন কেন?”
ঘটনার পরও এখনও পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও বিস্তারিত বিবৃতি সামনে আসেনি। তবে স্থানীয় স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই ঘটনার জেরে আবারও সামনে এল সরকারি হাসপাতালের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলি — পর্যাপ্ত চিকিৎসকের অভাব, প্রশাসনিক গাফিলতি এবং পরিকাঠামোর দুর্বলতা। সাধারণ মানুষের আস্থা যেখানে এমনিতেই নড়বড়ে, সেখানে এমন ঘটনা তাঁদের হতাশা আরও বাড়িয়ে দিল।







