বিদেশ

‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে কড়াকড়ি! একযোগে ৩০ জন রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আমেরিকার কূটনীতিতে এক বড়সড় ওলটপালট ঘটিয়ে দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ৩০ জন অভিজ্ঞ রাষ্ট্রদূত ও পদস্থ কূটনীতিককে একযোগে ওয়াশিংটনে ফেরত তলব করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সাফ কথা, বিদেশের মাটিতে আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব করবেন শুধু তাঁরাই, যাঁরা প্রেসিডেন্টের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে আমেরিকা’ নীতিতে মনেপ্রাণে বিশ্বাসী।

এই গণ-প্রত্যাহারের তালিকায় এমন সব কূটনীতিক রয়েছেন যাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সাধারণত কোনো রাজনৈতিক দলের অনুসারী না হয়ে তাঁরা নিরপেক্ষভাবে দেশের স্বার্থ রক্ষা করেন। কিন্তু ট্রাম্পের নতুন নির্দেশনায় তাঁদের আগামী জানুয়ারির মধ্যেই পদ ছাড়তে বলা হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বা মার্কিন বিদেশ মন্ত্রক একে একটি ‘স্বাভাবিক প্রক্রিয়া’ বললেও, ভেতরে ভেতরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন, অনেককেই ফোনে কোনো কারণ না দেখিয়েই ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমেরিকান ফরেন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এই ঘটনাকে ‘অস্বাভাবিক’ এবং ‘প্রতিষ্ঠানবিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, এভাবে হুট করে দক্ষ কূটনীতিকদের সরিয়ে দেওয়ায় বিদেশে আমেরিকার ভাবমূর্তি ও প্রভাব দুই-ই ক্ষুণ্ণ হতে পারে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো যখন প্রায় ৮০টি দেশে আমেরিকার পূর্ণকালীন কোনো রাষ্ট্রদূত নেই।

ডেমোক্র্যাটিক দলের সিনেটর জিন শাহীন সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, অভিজ্ঞদের সরিয়ে দিয়ে ট্রাম্প আসলে চীন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোকে বিশ্বমঞ্চে আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ করে দিচ্ছেন। তাঁর মতে, এর ফলে আমেরিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আগের চেয়ে দুর্বল হয়ে পড়বে। তবে হোয়াইট হাউস অনড়; তারা মনে করে প্রেসিডেন্টের নিজের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে, যাতে তাঁর নীতিগুলো বিশ্বজুড়ে নির্ভুলভাবে বাস্তবায়িত হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.