সম্প্রতি প্রকাশিত বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘিরে শুরু হয়েছে প্রবল চাঞ্চল্য ও বিতর্ক। অভিযোগ উঠছে, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে যেসব তৃণমূল কর্মী ‘দাদার অনুগামী’ পরিচয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই এবার সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেছেন। অথচ দলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করা আদি বিজেপি নেতাদের একাংশকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ময়নার দাপুটে নেতা আশিস মণ্ডলকে ঘিরে। এতদিন তিনি জেলা সহ-সভাপতির পদে ছিলেন, কিন্তু নতুন তালিকায় তাঁর নাম নেই। ক্ষোভ উগরে দিয়ে আশিসবাবু বলেন, “আদি বিজেপি কর্মীদের মনে আঘাত দিয়ে ভালো কিছু হতে পারে না।” একইভাবে পদ খুইয়েছেন মহিষাদলের প্রাক্তন বিজেপি প্রার্থী বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সহ-সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে তাঁকে করা হয়েছে সাধারণ সদস্য। তিনি অবশ্য কূটনৈতিক সুরে বলেন, “প্রথমে ক্ষোভ থাকবে, পরে ঠিক হয়ে যাবে।”
অন্যদিকে নতুন কমিটিতে স্থান পেয়েছেন নন্দকুমারের প্রাক্তন তৃণমূল প্রধান ভবেশ বর্মণ। ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েই তিনি এবার সরাসরি সহ-সভাপতির আসনে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা—আদি বিজেপি কর্মীরা কি এবার দলের হয়ে মাঠে নামতে পিছিয়ে পড়বেন?
বিষয়টি ঘিরে ইতিমধ্যেই সক্রিয় তৃণমূল। দলের মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, “যারা দলে ফিরতে চান, রাজ্য নেতৃত্বের অনুমতিতে তাঁদের স্বাগত জানানো হবে।”
তবে বিজেপির জেলা সম্পাদক সুকান্ত চৌধুরী এই ক্ষোভের তত্ত্ব মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, “দায়িত্ব না পেয়ে মন খারাপ হতে পারে, তবে ক্ষোভের কোনও খবর নেই।”
এখন দেখার বিষয়, আদি ও নবাগত কর্মীদের এই অন্দর দ্বন্দ্ব তমলুক সাংগঠনিক জেলায় গেরুয়া শিবিরের নির্বাচনী সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলতে চলেছে।







