গত কয়েক বছরে তরুণদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। কর্নাটকের হাসানে একের পর এক আকস্মিক হৃদরোগে মৃত্যু আরও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন – কোভিড টিকা কি এর জন্য দায়ী? এই প্রশ্ন ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে চর্চা।
এই বিষয়ে মত প্রকাশ করেছেন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস AIMS -এর প্রাক্তন ডিরেক্টর ডঃ রণদীপ গুলেরিয়া। তিনি জানিয়েছেন, ভারতের ICMR এবং AIMS -এর যৌথ গবেষণায় এই দাবি পুরোপুরি খারিজ হয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, কোভিড-19 টিকার সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক বা হঠাৎ মৃত্যুর কোনও সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ডঃ গুলেরিয়া বলেন, “অনেকের মনে ভুল ধারণা রয়েছে যে কোভিড ভ্যাকসিন নিরাপদ নয়। তবে বিজ্ঞানসম্মত গবেষণায় তার কোনও ভিত্তি নেই। হার্টের সমস্যা কিন্তু কোভিডের আগেও তরুণদের মধ্যে দেখা গিয়েছে। এর পেছনে জিনগত কারণ যেমন রয়েছে, তেমনই জীবনযাত্রার বড়সড় পরিবর্তনকেও দায়ী করা যায়।” তিনি জানান, বর্তমানে অধিকাংশ তরুণ ফাস্ট ফুডে অভ্যস্ত, শারীরিক পরিশ্রম কম, এবং বেশিরভাগ সময় তারা ডেস্কে বসেই কাজ করছেন। এসব মিলিয়ে শরীরে চর্বি জমছে, স্থূলতা বাড়ছে – যা হৃদরোগের অন্যতম কারণ।
ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে গুলেরিয়া বলেন, “হ্যাঁ, কোনও ওষুধই শতভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন নয়। তবে টিকা দেওয়া হয় সুস্থ ব্যক্তিদের, তাই তার প্রতিক্রিয়া আরও সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা জানাচ্ছে, কোভিড ভ্যাকসিনের ক্ষতির তুলনায় উপকারিতা অনেক গুণ বেশি। ভারতে টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল বলেই কোভিড মোকাবিলা সম্ভব হয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “এই মৃত্যুগুলি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিষ্ক্রিয় জীবনযাত্রার সঙ্গে এই সমস্যা জড়িত। তরুণদের উচিত, শরীরচর্চা করা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং সুস্থ ওজন বজায় রাখা। ভারতীয় খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়ানো প্রয়োজন, ফাস্ট ফুডের দিকে নয়।”
তাঁর পরামর্শ, কোভিড টিকার সঙ্গে এই ধরনের মৃত্যুর যোগসূত্র টানার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং আমাদের জীবনধারার দিকে নজর দেওয়াটাই বেশি জরুরি।







