একজন প্রাক্তন সভাপতি, অন্যজন সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। রাজ্য বিজেপির দুই মুখ এখন খবরে। দীর্ঘদিন কর্মসূচির বাইরে থাকা দিলীপ ঘোষের দলবদল ঘিরে চলা জল্পনার মাঝেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দিলীপকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা।
শনিবার শমীক বলেন,
“দিলীপ ঘোষ কোথায় গিয়েছেন যে ফিরে আসবেন? উনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন বিজেপিতেই। ওঁকে নিয়ে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার, দল নেবে। ওঁকে যেখানে দরকার, সেখানে কাজে লাগানো হবে। দিলীপ ঘোষ কোনও সেলেবেল কমোডিটি নয়।”
সঙ্গে জুড়েছেন,
“তিনি অন্য কোথাও যাবেন না। যেতে পারবেন না। ‘জায়ে তো জায়ে কাহা’।”
এই বক্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ। একদিকে শমীকের সাফ বার্তা—দিলীপ বিজেপিতে রয়েছেন, অন্যদিকে তাঁর “যেতে পারবেন না” মন্তব্যে উঠছে প্রশ্ন—কেন পারবেন না? কে বা কী তাঁকে আটকে রাখছে?
উল্লেখ্য, বিগত বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিজেপির কোনও মঞ্চে দেখা যাচ্ছে না দিলীপ ঘোষকে। একদিকে তাঁর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রকাশ্য মঞ্চে সৌজন্য বিনিময়, অন্যদিকে বিজেপির নীরবতা—সব মিলিয়ে চাপানউতোর চরমে।
সম্প্রতি দিলীপ নিজেও বলেছিলেন—
“কল্পনা করতে পয়সা লাগে না। ২১ জুলাই পর্যন্ত কল্পনার ডেট দেওয়া হয়েছে। মার্কেটে কিছু একটা থাকতেই হবে। দিলীপ ঘোষ মার্কেটে আছে।”
এই মন্তব্য ঘিরে একদিকে জল্পনা উসকে দিয়েছেন তিনিই, অন্যদিকে আবার সেটিকে পাত্তা দিতেও নারাজ।
তবে শমীকের বক্তব্যে স্পষ্ট—দল দিলীপকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে, দিলীপ নিজে কোনও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেবেন না। এই ‘বার্তা’র নেপথ্যে কি বিজেপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার বার্তা? নাকি দলবদল রুখতে কৌশলী হুঁশিয়ারি?
সব মিলিয়ে শহিদ দিবসের আগে দিলীপ ঘোষকে ঘিরে বিজেপির অন্দরে উত্তাপ তুঙ্গে।
আগামী দিন কী ইঙ্গিত দেয়, সেটাই এখন রাজনৈতিক মহলের নজরে।







