রাজ্য

হুমায়ুন কবীর বিতর্কে ফের উত্তাল ডেবরা, সরকারি অফিসে ‘জুতা-লাথি’ বিতর্কে বিধায়ক

সব্যসাচী গুছাইত, নিজস্ব সংবাদদাতা

পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা বিধানসভা ফের রাজ্য রাজনীতির বিতর্কের কেন্দ্রে। প্রাক্তন আইপিএস এবং বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ফের শিরোনামে — এবং এইবার অভিযোগ গুরুতর।

সল্টলেকের পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBUHS) ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া এক বিস্ফোরক ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডেলে শেয়ার করা ফুটেজে অভিযোগ, হুমায়ুন কবীর তাঁর ব্যক্তিগত অফিসেই এক সরকারি কর্মীকে জুতা-সহ লাথি মারেন, ঘুষি মারেন এবং অপমান করেন।

যাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার প্রলয় চক্রবর্তী। ভিডিওতে তাঁর উপর বিধায়কের লাগাতার শারীরিক নিগ্রহ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, দাবি শুভেন্দুর।

শুভেন্দু অধিকারী ওই ভিডিওর ক্যাপশনে লেখেন,

“এটা কেবল একজন মানুষের উপর হিংস্রতা নয়, বরং আমাদের প্রশাসনিক কাঠামো ও আইনের শাসনের উপর চরম আক্রমণ। এটা কি সেই শাসন যার প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়েছেন? তৃণমূলের বিধায়ক কি সরকারি কর্মীদের উপর সহিংসতা চালানোর লাইসেন্স নিয়ে ঘোরেন?”

তিনি আরও লেখেন,

“সরকারি আধিকারিক প্রলয় চক্রবর্তীকে এমন অবস্থা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে যে তিনি নিজের অফিস ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন! স্বাস্থ্য দফতরের এই নীরবতা আশ্চর্যজনক এবং অশ্রুতিপূর্ব।”

এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডেবরার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন,

“এ সবই ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সময় মতো আমি সব প্রশ্নের উত্তর দেব। আইন আইনের পথে চলবে।”

তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন,

“এই ঘটনার তদন্ত হোক। দল ইতিমধ্যেই হুমায়ুন কবীরকে একটি বিষয় নিয়ে শোকজ করেছিল। দল কোনও অন্যায়ের পাশে নেই — ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনেই এগোব। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দল নেবে।”

রাজ্য রাজনীতির শীর্ষে থাকা এই বিতর্কে শাসকদল চাপে পড়েছে বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। বিজেপি নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে ঘিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আইনের শাসনের’ দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে শুরু করেছে। এই ঘটনাকে সামনে রেখে আরও বড় আন্দোলনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে বিরোধীরা।

এই মুহূর্তে প্রশ্ন দুটি —
১. সত্যিই কী ঘটেছে ওই সিসিটিভি ফুটেজে?
২. দলীয় বিধায়কের বিরুদ্ধে আদৌ কি কড়া পদক্ষেপ নেবে তৃণমূল কংগ্রেস?

আগামী দিনেই সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে। তবে আপাতত ডেবরার রাজনৈতিক আবহে উত্তেজনার পারদ চড়ছেই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.