কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে চলা আদালত অবমাননার মামলায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হল, প্রশ্নের মুখে পড়লেন তাঁর আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুনানিতে বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য সরাসরি প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কি শাসকদলের মুখপাত্রের হয়ে অনুমতি দিতে পারেন? তাঁর মতে, তো রাজ্যের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন, তাহলে কীভাবে তিনি শাসক দলের প্রতিনিধির হয়ে অনুমতি দিতে পারেন? এতে কি বিষয়টি দুর্বল হয়ে পড়ে না?
জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিচারপতি হোন বা আইনজীবী অনেকে ব্যক্তিগতভাবে রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করেন। তাহলে তাঁদের বিচার কি নিরপেক্ষ হবে না?” যদিও তাঁর এই যুক্তি বিচারপতি মানতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, AG আইনগতভাবে রাজ্যের হয়ে কথা বলতে পারেন, কিন্তু শাসক দলের নেতার হয়ে সরাসরি অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি ভিন্ন প্রশ্ন তোলে।
এই মামলায় কল্যাণ দাবি করেন, কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা যথাযথ পদ্ধতি মেনেই হয়নি। তাঁর কথায়, “আইন অনুযায়ী, এজি-র কাছ থেকে লিখিত অনুমতি না পেলে এই ধরনের মামলা রুজু হওয়া উচিত নয়। অথচ এখানে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেছে।”
শুনানির সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে একটি ভিডিও তুলে ধরেন যেখানে ঘটনার দিন আইনজীবীদের প্রতিবাদ এবং তর্ক-বিতর্ক দেখা যায়। তিনি জানান, “সেখানে উপস্থিত ছিলেন বহু প্রবীণ আইনজীবীও। তাঁদের কথাবার্তাও শুনুন।”
শুনানির শেষ লগ্নে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানতে চান, আদালত অবমাননার মামলায় সর্বনিম্ন জরিমানার অঙ্ক কত হতে পারে। উত্তরে কল্যাণ বলেন,” ২ হাজার টাকা।” এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১৭ জুলাই।
প্রসঙ্গত, কলকাতা হাইকোর্টের প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের চেম্বারের বাইরে উচ্চ প্রাথমিকের কিছু চাকরিপ্রার্থী সম্প্রতি বিক্ষোভ দেখান। সেই প্রতিবাদ কর্মসূচিতেই বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। সেই সূত্রেই আদালত অবমাননার মামলা করেন বার অ্যাসোসিয়েশনের কয়েকজন আইনজীবী। অভিযোগ ওঠে, কুণাল ঘোষও সেই মন্তব্যে যুক্ত ছিলেন। বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর বেঞ্চ বর্তমানে এই মামলার শুনানি করছেন।






