বর্ষায় জল জমা মানেই মুম্বইবাসীর নতুন করে ভোগান্তির গল্প। তবে এবার সেই জলেই লুকিয়ে রয়েছে এমন এক ভয়ঙ্কর ফাঁদ, যা শরীর নয়—সরাসরি আক্রমণ করছে মস্তিষ্ক। চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, শহরে ছড়িয়ে পড়ছে নিউরোসিস্টিসারকোসিস নামে এক প্রাণঘাতী রোগ। যার উৎস এক পরজীবী—শূকরের দেহে বাস করা টেনিয়া সোলিয়াম নামক ফিতাকৃমি।
কীভাবে ছড়াচ্ছে এই রোগ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিষ্কার জল, অপর্যাপ্ত সিদ্ধ মাংস কিংবা অর্ধপরিষ্কৃত সবজির মাধ্যমে মানুষের শরীরে ঢুকে পড়ছে এই ফিতাকৃমির ডিম। শরীরে ঢোকার পর রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে তা পৌঁছে যাচ্ছে সরাসরি মস্তিষ্কে। সেখানে তৈরি করছে এক বা একাধিক সিস্ট—যা ধীরে ধীরে জন্ম দিচ্ছে নানা স্নায়বিক সমস্যা।
লক্ষণ? বোঝার আগেই মারাত্মক ক্ষতি
প্রথম দিকে রোগী বুঝতেই পারেন না কী ঘটছে। আচমকা খিঁচুনি, প্রবল মাথাব্যথা, দৃষ্টিভ্রম বা এমনকি আচরণগত পরিবর্তনও হতে পারে লক্ষণ। অনেকসময় এসব উপসর্গকে ভুল করে ধরা হয় মৃগীরোগ হিসেবে, ফলে চিকিৎসাতেও দেরি হয়।
চিকিৎসা ও চিহ্নিতকরণ
নিউরোসিস্টিসারকোসিস ধরা পড়ে সাধারণত এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে। চিকিৎসার জন্য রয়েছে ওষুধ ও পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণ, তবে দেরি হলে মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতির সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হুঁশিয়ারি
WHO জানিয়েছে, ভারত সহ একাধিক উন্নয়নশীল দেশে এই রোগ ভয়াবহভাবে বাড়ছে। দুর্বল স্যানিটেশন, অনিয়ন্ত্রিত পশুপালন ও খাদ্য নিরাপত্তার অভাবকে চিহ্নিত করা হয়েছে মূল কারণ হিসেবে। বাংলাদেশ, নেপাল ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।
রোগ প্রতিরোধে কী করণীয়?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রোগ রোধে কয়েকটি সহজ অভ্যাসই হতে পারে জীবনরক্ষাকারী:
শাকসবজি ভালো করে ধুয়ে রান্না করা
শূকরের মাংস পুরোপুরি সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত না খাওয়া
শুধুমাত্র পরিশ্রুত জল পান
মাথাব্যথা বা খিঁচুনি হলে অবহেলা না করে নিউরো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া
মুম্বইয়ের হাসপাতালে বাড়ছে রোগী সংখ্যা
কোকিলাবেন ধীরুভাই অম্বানি হাসপাতাল সহ শহরের একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে ইতিমধ্যেই ভর্তি হচ্ছেন এই রোগে আক্রান্ত রোগীরা। হাসপাতালের এক নিউরো বিশেষজ্ঞ জানালেন—
“এই রোগের কোনও বাহ্যিক চিহ্ন নাও থাকতে পারে। কিন্তু মাথার ভিতরে যে ক্ষয়যুদ্ধ চলতে থাকে, তা নিঃশব্দে মস্তিষ্ককে পঙ্গু করে দিতে পারে।”
শেষ কথা—সতর্ক থাকুন, সচেতন হোন
বর্ষার জল পা ভিজিয়ে গেলেও চলে। কিন্তু সেই জল যদি অসতর্কতার ফাঁক দিয়ে পৌঁছে যায় মস্তিষ্কে, তখন তার মূল্য হতে পারে চরম।
সময় থাকতে ব্যবস্থা না নিলে, এই নীরব ঘাতক থাবা বসাতে একটুও দেরি করবে না।







