বাঙালি হিন্দু সমাজে কালীর মাতৃরূপের পূজা বিশেষ জনপ্রিয়। দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের জন্যেই দেবী কালীর পূজা করা হয়। দেবী কালীর অসংখ্য নামের মধ্যে দক্ষিণ, সিদ্ধ, গুন্য, ভদ্র, শ্মশান, রক্ষা ও মহাকালী। তন্ত্র অনুসারে, কালী দশমহাবিদ্যা নামে পরিচিত দশজন প্রধান তান্ত্রিক দেবীর প্রথম। দশমহাবিদ্যার ইনি প্রথমা মহাবিদ্যা। শাক্ত মতে, কালী বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির আদি কারণ। পশ্চিমবঙ্গে ছড়িয়ে রয়েছে বিশেষ কিছু সতীপীঠ ও জাগ্রত কালী মন্দির। লোকবিশ্বাস সেই সব মন্দিরে দেবীর কাছে যা আশীর্বাদ চাওয়া হয়, কেউ কখনও খালি হাতে ফেরত আসেন না। সকলের মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন তিনি। শত শত বছর ধরে এই সব মন্দিরের মাহাত্ম্য লোমুখে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। সেরকমই একটি মন্দির হল আগরপাড়ার বহু প্রাচীন ও বিখ্যাত, জাগ্রত দেবী রক্ষাকালী।
এখানে দেবীর বেদীর কাছে এসে মানত করতে হয়। পূরণ হলে, সেই ভক্ত দণ্ডী কাটেন। দেবীর পুজোর দিন কয়েক হাজার ভক্তের সমাগম হয় এই মন্দির চত্বরে।
এখানে দেবীর কোনও মন্দির নেই। দেবীর মাথার ওপর ছাউনিও দেওয়া যায় না। একবার মন্দির তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু, ঝড়ে মন্দিরটি ভেঙে পড়ে। তারপর থেকে খোলা আকাশের নীচেই দেবীর পুজো করা হয়। দেবীর বেদীর পিছনের দিকে রয়েছে পাঁচিল। ভক্তদের দাবি, একবার কিছু চোর দেবীর গয়না চুরি করেছিল। পরে দেবীর রোষে সেই চোরদের হাত ভেঙে যায়। দেবী ওই চোরদের স্বপ্নাদেশও দেন। তার জেরে চোররা এসে দেবীর গয়না ফেরত দিয়ে যায়।
নিয়ম অনুযায়ী দেবীর বিসর্জন হয় কাকডাকার আগে ভোরে। একবার এই নিয়মের অন্যথা হয়েছিল। দেবীর বিসর্জন দেওয়া হয়নি। ভক্তরা ভেবেছিলেন যে পরের দিন দেবীর বিসর্জন দেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত দেখা যায় যে বিসর্জন না-দেওয়ার কারণে হঠাত্ করে দেবীর বেদী এবং মূর্তি নড়ে ওঠে। এখানে দেবীর বেদীর পাশেই রয়েছে বড় পুকুর।
আচমকা ভক্তরা দেখেন যে দেবী নিজে থেকেই বিসর্জিত হচ্ছে। পরদিন দেবী রক্ষাকালীর প্রধান পুরোহিত স্বপ্ন দেখেন। স্বপ্নে দেবী জানান যে প্রতিবছর তাঁর পুজো করতে হবে। দেবীকে নিয়ে যেতে হবে কুমোরপাড়া দিয়ে। পুজোর আগের দিন থেকে নির্জলা উপোস থাকতে হবে ভক্তদের। দেবীকে বিসর্জন দিতে হবে পুজোর দিন কাকডাকার আগে। দেবীর মূর্তিও গড়তে হবে পুজোর দিন।






