জেলারাজনীতিরাজ্য

সোনারপুর কলেজে ছাত্রনেতার আচরণ ঘিরে বিতর্ক, উঠে এল বিধায়কের নাম

রাজ্যে বিভিন্ন কলেজে তৃণমূলপন্থী ছাত্রনেতাদের বেপরোয়া আচরণ নিয়ে বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর কলেজে ঘটল আরও একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এবার এক ছাত্রনেতার ‘অসামান্য আরামপ্রিয়তা’ র ভিডিও ভাইরাল হয়ে উঠেছে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সোনারপুর কলেজ চত্বরে এক তরুণী মাথা টিপে দিচ্ছেন এক মধ্যবয়স্ক ছাত্রনেতার, যিনি বসে রয়েছেন আরাম কেদারায় এবং অনায়াসে সিগারেট টানছেন। ওই ছাত্রনেতার নাম প্রতীক কুমার দে, বয়স ৪৪। যদিও ভিডিওটির সত্যতা এখনও নিরপেক্ষভাবে যাচাই হয়নি, তবে তাতে জল অনেক দূর গড়িয়েছে ইতিমধ্যেই।

জানা গিয়েছে, প্রতীক দে বর্তমানে সোনারপুর মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র পরিষদের কো-অর্ডিনেটর। তাঁকে এই পদে মনোনীত করেছেন সোনারপুর দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক লাভলি মৈত্র। এখানেই শেষ নয় তিনি রাজপুর টাউন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি এবং সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন।

এই ঘটনার পর একাধিক প্রশ্ন উঠে আসছে বিশেষ করে এই নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধছে, কীভাবে একজন বারুইপুর কলেজের প্রাক্তন ছাত্র সোনারপুর কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানে এতটা প্রভাব খাটাতে পারেন? বিরোধীদের অভিযোগ, এর নেপথ্যে রয়েছে বিধায়ক লাভলি মৈত্রের সরাসরি মদত।

উল্লেখযোগ্যভাবে, সোনারপুর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর পাপিয়া হালদার এক সময় থানায় প্রতীক দে-র বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক হেনস্থার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তাঁর দাবি, “আমি বহু আগেই সতর্ক করেছিলাম। আজকের ভিডিওটি ফের প্রমাণ করল আমি যা বলেছিলাম তা মিথ্যে ছিল না। এ ঘটনা অত্যন্ত লজ্জার। আমি বিষয়টি দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানিয়েছি। তাঁরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।’

এই ঘটনার সূত্র ধরে আবারও রাজ্যের ছাত্র রাজনীতিতে শৃঙ্খলার অভাব, ছাত্রনেতাদের বয়স, দায়িত্ববোধ ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে প্রবল প্রশ্ন উঠেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.