কেন্দ্রীয় শ্রমনীতি বাতিলের দাবিতে দেশজুড়ে ডাকা সাধারণ ধর্মঘটে মঙ্গলবার সকাল থেকেই একাধিক জায়গায় উত্তেজনার ছবি ধরা পড়ল। ১০টি কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনের আহ্বানে আয়োজিত এই বন্ধে অংশ নেন বহু শ্রমিক ও সংগঠনের কর্মী। বিভিন্ন জায়গায় রেল ও রাস্তাঘাট অবরোধের চেষ্টা, বিক্ষোভ-মিছিল, এমনকি পুলিশ-ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। তবে জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ছিলো তৎপর।
কলকাতার যাদবপুর, গাঙ্গুলিবাগান, বাঘাযতীন সহ দক্ষিণ কলকাতার একাধিক জায়গায় সকাল থেকে রাস্তায় নেমে আসেন ধর্মঘট সমর্থকরা। যাদবপুরের এইট বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে লাল পতাকা হাতে মিছিল করেন তাঁরা। সেখানে কুশপুতুল দহন এবং টায়ার জ্বালিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলা হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে গেলে পুলিশ গেলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। ধাক্কাধাক্কির মাঝে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশে থাকা এক দোকানে, পুড়ে যায় বৈদ্যুতিক তার। এক পুলিশকর্মীর জুতোতেও আগুন ধরে যায় বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে রেল চলাচল যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে শুরু থেকেই সতর্ক ছিল প্রশাসন। বাঘাযতীন ও যাদবপুর স্টেশনে প্ল্যাকার্ড হাতে বাম কর্মীরা মিছিল করলেও ট্রেন চলাচলে বড় কোনও ব্যাঘাত ঘটেনি। তবে বেলঘরিয়ার বিটি রোডে প্রবর্তক জুটমিলের সামনে অবরোধ গড়ে তোলেন ধর্মঘটকারীরা। তাঁদের সঙ্গে গাড়িচালকদের বচসা বাধে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
হাওড়ার ডোমজুড়েও সকাল সকাল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সিপিএম কর্মীরা রাস্তায় নামতেই বেশ কয়েকটি বাস ও লরি থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। বিক্ষোভে বাধা দিতে এলে পুলিশের সঙ্গে বাম সমর্থকদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র্যাফ সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে লাঠিচার্জ করে। দু’জন সিপিএম কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় দু’জনকে।
অন্যদিকে ধর্মঘট রুখতে আগেভাগেই কড়া অবস্থান নেয় নবান্ন। রাজ্য সরকার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেয়, আজ সমস্ত রাজ্য সরকার ও সরকার পোষিত দফতর খোলা থাকবে। কোনও কর্মী ছুটি নিতে পারবেন না, এমনকি অর্ধদিবস ছুটিও গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ অফিসে অনুপস্থিত থাকলে তাঁর একদিনের বেতন কাটা হবে এবং সেই দিনটি কর্মজীবন থেকেও বাদ যাবে। তবে আগে থেকে ছুটিতে থাকা, গুরুতর অসুস্থতা বা পারিবারিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। এ ছাড়াও, প্রত্যেক সরকারি দফতরকে আজকের কর্মী হাজিরার পূর্ণাঙ্গ তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।







