পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় নদী বাঁধ পরিদর্শনে এসে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। তিনি জানান, রাজ্য সরকারকে না জানিয়েই ডিভিসি ফের ৪৯ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে। এর ফলে কংসাবতী, সুবর্ণরেখা এবং দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে একযোগে জল প্রবাহিত হচ্ছে বাংলার দিকে।
মন্ত্রী জানান, “প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হচ্ছে আমাদের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২১ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুমে বসে পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন। আমি নিজেও দেড় মাস ধরে জেলায় জেলায় ঘুরছি।”
তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই তিনি আজ পাঁশকুড়ার ডোমঘাট এলাকা পরিদর্শনে এসেছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আগামী দিনে বাঁধ সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
কেন্দ্রকে আক্রমণ করে মানস ভুঁইয়া বলেন, “২০১৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত নদী সংস্কারের জন্য এক টাকাও দেয়নি কেন্দ্র। ১.৭৭ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া আছে। ‘ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান’ নিয়ে দিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, টাকা দেবে না। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী ১৫৫০ কোটি টাকার প্রকল্প রাজ্যের বাজেটে পাস করিয়েছেন, তার মধ্যে ৫০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই আমার দপ্তর পেয়েছে। কাজ চলছে।”
সেচমন্ত্রী আরও জানান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়খণ্ডে ভারী বৃষ্টির ফলে কংসাবতী ব্যারাজের জল বাড়ছে, তবে রাজ্য সরকার প্রস্তুত। প্রতিটি ব্লকে প্রশাসন, ইরিগেশন, এবং কন্ট্রোল রুম তৎপর অবস্থায় রয়েছে। মানুষকে নিরাপদ রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।
গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্যে তাঁর আবেদন, “আপনারা সহযোগিতা করুন। সরকার আপনাদের পাশে আছে। আমরা সকলে একসাথে লড়ে এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠব।”







