ভারতীয় ক্রিকেটে বড় ধরনের আর্থিক রদবদল নিয়ে তৈরি বিসিসিআই। আগামী ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলা বোর্ডের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)-তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে চলেছে, যার সরাসরি সুফল পেতে চলেছেন শুভমন গিল এবং দেশের ঘরোয়া মহিলা ক্রিকেটারেরা। বোর্ডের অভ্যন্তরে জোর জল্পনা, ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স এবং লিঙ্গ সমতার নিরিখে চুক্তি কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আসছে।
বর্তমানে জাতীয় দলের তিন ফরম্যাটের নির্ভরযোগ্য তারকা শুভমন গিলকে চুক্তির সর্বোচ্চ স্তর ‘এ+’ ক্যাটেগরিতে নিয়ে আসার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত। ধারাবাহিকভাবে টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে নজর কাড়া পারফর্ম করার পুরস্কার হিসেবে এই তরুণ ওপেনারকে বোর্ডের সর্বোচ্চ আর্থিক বেষ্টনীতে আনা হচ্ছে। সূত্র মারফত খবর, এই এলিট ক্যাটেগরিতে গিল সঙ্গী হবেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাডেজা এবং ভারতের সেরা ফাস্ট বোলার জশপ্রীত বুমরাহর। তবে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন দুই সিনিয়র তারকা, রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলি। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ার পর তারা কেবল ওয়ানডেতেই সক্রিয়। বোর্ডের একাংশ তাদের মর্যাদার কথা ভেবে ‘এ+’ ক্যাটেগরিতেই রাখতে চাইলেও, অন্য একটি অংশ মনে করছে, সাম্য বজায় রাখতে তাদের ‘এ’ ক্যাটেগরিতে নামিয়ে আনা উচিত। এই বিষয়ে বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ২২ ডিসেম্বরের বৈঠকেই নির্ধারিত হবে।
হরমনপ্রীত কৌর, স্মৃতি মন্ধানাদের নেতৃত্বে একদিনের বিশ্বকাপ জয় এবং দেশের ক্রিকেটে মহিলা দলের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে সম্মান জানাতে বড়সড় আর্থিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে বিসিসিআই। ঘরোয়া মহিলা ক্রিকেটারদের জন্য ম্যাচ ফি-তে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘোষণা করা হতে পারে। বোর্ডের কর্তারা মনে করছেন, এই আর্থিক বৃদ্ধি কেবল ভালো পারফর্ম করা ক্রিকেটারদেরই উৎসাহিত করবে না, বরং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আরও বেশি সংখ্যক মেয়েকে ক্রিকেট খেলার প্রতি আকৃষ্ট করতে সাহায্য করবে। মহিলা কেন্দ্রীয় চুক্তির অধীনে থাকা ক্রিকেটারদের (যেমন হরমনপ্রীত ও মন্ধানা) বার্ষিক বেতনের অঙ্কও পুনর্বিবেচনা করে তা বাড়ানোর বিষয়ে পর্যালোচনা করা হবে। সভাপতি মিঠুন মানহাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই সভায় ডিজিটাল সম্পদ সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা তৈরি, আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি-সহ একাধিক সাংগঠনিক বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।







