‘বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি? বিজেপিকে ভোট দিয়েও হেনস্থা?’—মহারাষ্ট্রে ছয় মাস ধরে আটক রানাঘাটের দুই মতুয়া যুবকের পরিবারের এই আর্তি ঘিরে ফের রাজনৈতিক শোরগোল। এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দিকেই আঙুল তুললেন তৃণমূল রাজ্যসভার সাংসদ সামীরুল ইসলাম।
সামীরুল সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেছেন যেখানে রানাঘাটের বাসিন্দা নিশিকান্ত দুবের দুই ছেলে—মণিশঙ্কর ও নয়নের পরিবারের বক্তব্য উঠে এসেছে। অভিযোগ, মহারাষ্ট্রে কাজ করতে গিয়ে এই দুই যুবক কোনও কারণ ছাড়াই পুলিশের হাতে আটক হন এবং গত ছ’মাস ধরে বন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
ভিডিয়োয় একজনকে বলতে শোনা যায়,
“আমাদের ছেলেদের আধার-ভোটার আইডি সবই রয়েছে। তাও মহারাষ্ট্র পুলিশ গ্রেফতার করেছে। মায়ের ব্রেন স্ট্রোক হয়েছে। গ্রামের মানুষ চিকিৎসার দায়িত্ব নিচ্ছে। দিদির (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) কাছে অনুরোধ—আমাদের ছেলেদের ছাড়ানোর ব্যবস্থা করুন। আমরা বিজেপিকে ভোট দিয়ে ভুল করেছি।”
পরিবারের অভিযোগ ঘিরে উঠে এসেছে গেরুয়া শিবিরের ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ প্রশ্ন। মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে ভরসা রেখেও কেন বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে তাদের হেনস্থা হতে হচ্ছে—তা নিয়েই চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরিবার।
বিজেপির পক্ষ থেকে এই ইস্যুতে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর সজল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য,
“কী অভিযোগে গ্রেফতার তা জানা নেই। সামীরুল কেন মতুয়াদের হয়ে কথা বলছেন? মতুয়ার দায়িত্ব জনতা পার্টির আছে।”
তবে ভোটের মুখে এই ভিডিয়ো সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—মতুয়াদের মধ্যে কি ভাঙন শুরু হয়ে গেল?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাব্বিশের লোকসভা ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনা বিজেপির জন্য অস্বস্তির। কারণ ইতিমধ্যেই তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি পরিচয়ে বহু মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে। এবার তা যেন আরও একবার প্রমাণিত হল রানাঘাটের ঘটনাকে ঘিরে।
এই ঘটনার মূল পয়েন্ট:
রানাঘাটের দুই মতুয়া যুবক মহারাষ্ট্রে ছয় মাস ধরে আটক।
আধার, ভোটার কার্ড থাকলেও গ্রেফতার।
পরিবারের দাবি: মায়ের ব্রেন স্ট্রোক, ছেলেদের জন্য জীবন-মরণ সমস্যা।
মমতার কাছে ছেলেদের মুক্তির আবেদন।
অভিযোগ: বিজেপিকে ভোট দিয়ে ভুল করেছেন মতুয়ারা।
বিজেপি দাবি: “অভিযোগ অজানা, সামীরুল রাজনীতি করছেন।”
এই ঘটনায় শুধু মতুয়া পরিবার নয়, প্রশ্নের মুখে বিজেপির সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক সম্প্রদায়ের ভোটব্যাঙ্ক রক্ষণশীলতাও।







