বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার উত্তরা এলাকায় সোমবার দুপুরে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বাংলাদেশ বায়ু সেনার একটি এফ-৭ বিজিআই (F-7 BGI) প্রশিক্ষণ বিমান আচমকা ভেঙে পড়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের (Milestone School and College) ক্যাম্পাসের উপর। বিমানটি ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৭২ জন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপুরের ব্যস্ত সময়ে আচমকাই আকাশ থেকে বিকট শব্দ করে ভেঙে পড়ে যুদ্ধবিমানটি। সঙ্গে সঙ্গে স্কুল প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে পড়ে আগুন ও ধোঁয়া। উদ্ধারকাজে নামে দমকল, পুলিশ ও সেনা দল। এখনও উদ্ধার করা হচ্ছে বিমানের ধ্বংসস্তূপের ভিতরে আটকে থাকা দেহ ও আহতদের। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
দুর্ঘটনায় আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও সেনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আটজনের অবস্থা সংকটজনক বলে জানা গিয়েছে। পাইলটকেও সেনা হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন—
“আজ মাইলস্টোন স্কুলে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের সবাইকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে… এক নিমিষে ঝরে গেছে অনেক তরুণ প্রাণ, নিভে গেছে অগণিত স্বপ্ন।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, একজন বাবা, একজন বাংলাদেশি এবং একজন মানুষ হিসেবে এই যন্ত্রণা তিনি গভীরভাবে অনুভব করছেন।
শুধু বাংলাদেশ নয়, প্রতিবেশী দেশ ভারতের পক্ষ থেকেও এসেছে শোকবার্তা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স (Twitter)-এ লিখেছেন—
“ঢাকায় বিমান দুর্ঘটনার খবরে আমি হতবাক। যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোক জানাই। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছি। প্রয়োজনে সবরকম সাহায্য করতে আমরা প্রস্তুত।”
প্রসঙ্গত, F-7 BGI বিমানটি চিনে তৈরি। বাংলাদেশ বায়ু সেনা মূলত এই প্রশিক্ষণ বিমানের মাধ্যমে আধুনিক পাইলটদের প্রস্তুত করত। তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই দুর্ঘটনার আসল কারণ জানতে এখনই তদন্তে নামছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।







