গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গে ফের নিম্নচাপের প্রভাবে ঘোরতর দুর্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। বঙ্গোপসাগরে আচমকা যে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে, তার মূল কারণ চীন ও ভিয়েতনামে আছড়ে পড়া বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় উইফার। সেই ঝড়েরই একটি অংশ উত্তর বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়ে শক্তিশালী নিম্নচাপে পরিণত হচ্ছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায় শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে প্রবল বৃষ্টির জেরে নদীর জলস্তর বেড়ে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা করছে রাজ্য সরকার।
নিম্নচাপের মূল প্রভাব পড়বে এই সাত জেলায়:
উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা
পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
হুগলি
হাওড়া
ঝাড়গ্রাম
গতকাল বিকেলেই মুখ্যসচিব সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের আগাম সতর্কবার্তা পাঠিয়েছেন। নবান্নের পক্ষ থেকে সেচ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরকে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনকে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
উত্তাল সমুদ্র ও নিষেধাজ্ঞা:
নিম্নচাপের জেরে সমুদ্র থাকবে অতি উত্তাল। বৃহস্পতিবার থেকেই সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে মৎস্যজীবীদের জন্য। এই নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৭ জুলাই (রবিবার) পর্যন্ত। একইসঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গে সামান্য স্বস্তি: গতকাল উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনায় কম হলেও শুক্রবার থেকে রবিবার দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়ির কিছু অঞ্চলে বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
পরামর্শ:
আবহাওয়ার এমন প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে রাজ্যবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। নিচু এলাকার মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিভিন্ন জেলা।







