জেলা

সীমান্তে মানবপাচার রুখতে বসিরহাটে বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির, প্রশ্ন তোলছে সমাজে ফেরা নারীদের ভবিষ্যৎ

উত্তর ২৪ পরগণার বসিরহাট মহকুমায় নারী ও শিশু পাচার রুখতে এবার কড়া পদক্ষেপ জেলা প্রশাসনের। সম্প্রতি সীমান্ত সংলগ্ন সুন্দরবন এলাকার বেশ কিছু গ্রামে মানবপাচারের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায়, বসিরহাট টাউন হলে আয়োজন করা হয় এক বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের। এই শিবিরে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফ, রাজ্য পুলিশ এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে সহযোগিতা করেছে কলকাতার ‘মেরি ওয়ার্ড সোশ্যাল সেন্টার’। প্রশিক্ষণ শিবিরের মূল উদ্দেশ্য ছিল পাচার রোধে সংশ্লিষ্ট সমস্ত সংস্থার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা এবং স্থানীয় মানুষকে সচেতন করে তুলতে যৌথ উদ্যোগে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া।

কিন্তু সব প্রশ্নের উত্তর কি এই শিবিরেই লুকিয়ে আছে?

প্রশাসনের এই উদ্যোগ যতই প্রশংসনীয় হোক না কেন, তবু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে সীমান্ত পেরিয়ে পাচার হয়ে যাওয়া অসংখ্য শিশু ও নারীর ভবিষ্যৎ নিয়ে। বহু মহিলা যাঁরা পাচারকারীদের কবল থেকে ফিরে এসেছেন, তাঁদের ঠাঁই হয়নি পরিবারে, স্থান পায়নি সমাজেও। সেই নারীদের জীবনে ফেরেনি আলো, বরং সমাজের তাচ্ছিল্য তাদের আরও গভীর অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ লকডাউনের সময় পাচারকারীরা হয়ে ওঠে আরও সক্রিয়। সীমান্তবর্তী দারিদ্র্যপীড়িত গ্রামগুলিতে সহজেই প্রবেশ করে তারা। কখনো বিয়ের প্রলোভন, কখনো কাজ বা টাকার লোভ দেখিয়ে পাচার হয়ে গেছে অসংখ্য শিশু ও নারী। পাচার হওয়া একাধিক নারী ফিরে এলেও তাঁদের পুনর্বাসন ও সামাজিক স্বীকৃতির অভাব এক নির্মম বাস্তব।

জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা অবশ্য দাবি করেছেন, কেবল প্রশিক্ষণই নয়—আগামী দিনে পাচার রোধে আরও কড়া নজরদারি এবং সামাজিক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে আলাদা প্রকল্প নেওয়া হবে।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—যারা ফেরে, তাদের পাশে কে দাঁড়াবে? সমাজ কি প্রস্তুত সেই ‘অন্ধকার থেকে ফেরা’ মেয়েদের নতুন করে গ্রহণ করতে? নাকি এই প্রশিক্ষণ শিবির কেবল কিছু তথ্যভিত্তিক বক্তৃতা হয়েই থেকে যাবে?

এই প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যৎই দেবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.