সম্প্রতি ঘোষিত ৭১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন বলিউডের একাধিক তারকা। শাহরুখ খান পেয়েছেন সেরা অভিনেতার খেতাব, তাঁর ‘জওয়ান’ ও ‘ডাঙ্কি’ ছবির জন্য। ’12th Fail’ ছবির জন্য সেরা অভিনেতার সম্মান পেয়েছেন বিক্রান্ত ম্যাসি। আর সেরা অভিনেত্রী হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন রানি মুখোপাধ্যায়।
এই পুরস্কার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বিতর্কিত হিন্দি ছবি *‘দ্য কেরালা স্টোরি’*ও। পরিচালক সুদীপ্ত সেন সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন, আর প্রশান্তনু মহাপাত্র পেয়েছেন সেরা সিনেমাটোগ্রাফির জন্য। আর এখানেই তৈরি হয়েছে বিতর্কের আবহ।
ফিল্মফেয়ার ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক জিতেশ পিল্লাই প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন এই পুরস্কার প্রক্রিয়ার। তাঁর মতে, “‘কেরালা স্টোরি’ বলিউডের অন্যতম নিম্নমানের ও বিভাজনমূলক চলচ্চিত্র। এর মত একটি ছবি কখনও সেরা পরিচালনার জন্য জাতীয় পুরস্কার পেতে পারে না।” তিনি এই সিদ্ধান্তকে আখ্যা দিয়েছেন “নির্লজ্জ প্রচারণা বিক্রির নমুনা” বলে।
পিল্লাই প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় পুরস্কার জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের মানদণ্ড নিয়েও। তাঁর আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান আশুতোষ গোয়ারিকর। তাঁর ভাষায়, “যে ব্যক্তি নিজেকে সবসময় সংবেদনশীল ও শিল্পরুচির পরিচায়ক বলে দাবি করেন, তাঁর কাছ থেকে এমন সিদ্ধান্ত অকল্পনীয়।”
একই সঙ্গে তিনি তুলনা করেছেন আরও প্রশংসিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ছবি যেমন— ‘জ্যাকফ্রুট’, ‘বালাগাম’, ‘চিথা’, ‘আটম’, ‘বিদুথলাই’, ‘All We Imagine As Light’— এসব ছবি থাকার পরেও ‘কেরালা স্টোরি’কে সেরা পরিচালনার স্বীকৃতি দেওয়া “সিনেমার প্রতি চূড়ান্ত অবমাননা” বলেই মনে করেন তিনি।
পিল্লাইয়ের এই পোস্টে সমর্থন জানিয়েছেন অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা ও দিয়া মির্জা। তাঁরা তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করে হাততালির ইমোজি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, শুধু ‘কেরালা স্টোরি’ নয়, শাহরুখ খানের পুরস্কার পাওয়া নিয়েও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জলঘোলা। তবে এই মুহূর্তে পিল্লাইয়ের তীব্র ভাষায় লেখা দীর্ঘ ফেসবুক পোস্ট ঘিরেই সবচেয়ে বেশি আলোড়ন উঠেছে চলচ্চিত্র মহলে।







