কেন্দ্ররাজ্য

ডিভিসি-র জলছাড় ঘিরে রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত, ম্যান-মেড বন্যা’র অভিযোগ তৃণমূলের

রাজ্যের একাধিক জেলায় জলমগ্ন অবস্থার জন্য দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ডিভিসি)-কে কাঠগড়ায় তুলেছে রাজ্য সরকার। হুগলির আরামবাগ এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল সফর করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ডিভিসি-র জল ছাড়ার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের অধীনে থাকা ডিভিসি কোনো রকম সমন্বয় ছাড়াই বিপুল পরিমাণে জল ছেড়ে দিয়ে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

এই পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যসভায় কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য ঘিরে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কেন্দ্র শুধু ২৮ দিনের জল ছাড়ার হিসাব দিয়েছে, অথচ রাজ্য চেয়েছিল জুন-জুলাই দুই মাসের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান। তিনি সরাসরি এই ঘটনাকে ‘মানবসৃষ্ট দুর্যোগ’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং অভিযোগ তোলেন, বিজেপি সরকার তথ্য লুকোচ্ছে। জলশক্তি মন্ত্রকের উদ্দেশে ঋতব্রত চারটি প্রশ্ন তুলেছিলেন ডিভিসি আদৌ ২৭ হাজার লক্ষ কিউবিক মিটার জল ছেড়েছে কি না, জল ছাড়ার আগে রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়েছিল কি না, হলে কী আলোচনা হয়েছে এবং যদি আলোচনা না-হয়, তবে তার কারণ কী।

এই প্রশ্নগুলির জবাবে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিল জানান, ১৮ জুন থেকে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে মোট ২৭,৯৮৭ লক্ষ কিউবিক মিটার জল ছাড়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, জলছাড় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ডিভিসি-র রিভার ম্যানেজমেন্ট কমিটির মাধ্যমে, যেখানে পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ড রাজ্যের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত বিজ্ঞানসম্মত নিয়ম মেনেই নেওয়া হয় বলে কেন্দ্রের দাবি। তাঁর অভিযোগ, ফসল নষ্ট, ঘরবাড়ি জলে ভেসে যাওয়া সব মিলিয়ে দক্ষিণবঙ্গের মানুষের জীবন বিপর্যস্ত। বিজেপির ছক অনুযায়ীই ডিভিসি জল ছেড়েছে, যা বাংলাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার চক্রান্তের অংশ। তবে মনে রাখতে হবে, বাংলার মানুষ ২০২৬-এর ভোটে এর জবাব দেবেই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.