ভোর থেকেই কলকাতার আকাশে যেন চাপা উত্তেজনার ছায়া। আরজি কর মেডিকেল কলেজের তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর এক বছর পূর্তিতে ঘোষিত নবান্ন অভিযান ঘিরে শহর জুড়ে তৈরি হয় বিস্ফোরণ-পূর্ব পরিস্থিতি। সকাল নামতেই উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া ও কলকাতার রাস্তায় পুলিশি নজরদারি বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ব্যারিকেডে ঘেরা সংবেদনশীল এলাকাগুলি যেন আগাম সতর্কবার্তা দিচ্ছিল—আজকের দিনটি শান্তভাবে কাটবে না।
বাবা-মায়ের নেতৃত্বে অভিযানে শামিল হয়েছিলেন বহু মানুষ, যাঁদের একটাই দাবি—ন্যায়বিচার। কিন্তু নবান্নের পথে এগোতে গিয়েই একাধিক জায়গায় তাঁদের আটকায় পুলিশ। অভিযোগ, ধর্মতলার কাছে নির্যাতিতার বাবা-মাকে টেনে হিঁচড়ে মাটিতে ফেলে দেয় পুলিশকর্মীরা। এই ধস্তাধস্তিতে মায়ের হাতের শাঁখা-পলা ভেঙে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমরা নিরস্ত্র, আমাদের হাতে কোনও অস্ত্র নেই। তবু কেন এই ভয়?”
এদিনের বিক্ষোভ শুধুমাত্র আরজি কর কাণ্ডের বিচারের দাবি নয়, বরং প্রশাসনিক উদাসীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে, সাঁতরাগাছি থেকে পার্ক স্ট্রিট পর্যন্ত, পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। আহত হন বহু বিক্ষোভকারী, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিংও।
দিনভর রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলি। যান চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, সাধারণ মানুষ ভোগেন চরম দুর্ভোগে। শেষ পর্যন্ত কঠোর পুলিশি অবস্থানেই থামানো হয় অভিযাত্রা। তবে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য স্পষ্ট—এই লড়াই এখানেই থেমে থাকবে না, ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত রাস্তায় রাস্তায় প্রতিবাদ জারি থাকবে।







