দেশ

জীবন ও স্বাস্থ্যবিমা করমুক্তির পথে, বিরোধীদের দীর্ঘ দাবিতে নতি কেন্দ্রের

স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছিলেন করকাঠামোকে আরও সহজ করার উদ্যোগের কথা। এবার অবশেষে নতি স্বীকার কেন্দ্রের। জীবন ও স্বাস্থ্যবিমা থেকে জিএসটি প্রত্যাহারের পথে হাঁটল সরকার। বুধবার বিমা সংক্রান্ত মন্ত্রিগোষ্ঠীর কনভেনর তথা বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী জানান, জীবন ও স্বাস্থ্যবিমাকে করমুক্ত করার প্রস্তাবে ছাড়পত্র মিলেছে। খুব তাড়াতাড়ি জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে চলেছে এই সিদ্ধান্ত। যার ফলে বিমায় জিএসটি ১৮ শতাংশ থেকে এক্কেবারে শূন্য শতাংশে নেমে আসতে পারে।

‘নেক্সট জেনারেশন জিএসটি’ চালুর বার্তা দিয়েই কেন্দ্র বিমা নিয়ে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে বিরোধীরা বড় জয় হিসেবেই দেখছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরেই বিমায় জিএসটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তিনি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে এই বিষয়ে চিঠিও দিয়েছিলেন। সংসদের অধিবেশন থেকে শুরু করে জিএসটি কাউন্সিল সব মঞ্চেই তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টি নিয়ে জোরালোভাবে সরব হয়েছে। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও বারবার দাবি করেছিলেন, বিমার উপর অতিরিক্ত করের বোঝা সাধারণ মানুষকে বিমুখ করছে। দেশের আরও অনেক রাজ্যের অর্থমন্ত্রীও জীবন ও স্বাস্থ্যবিমার জিএসটি কমানোর উদ্দেশ্য এক জোট হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, জিএসটি প্রত্যাহার হলেও বিমার প্রিমিয়াম আদতে কমবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তাই মন্ত্রিগোষ্ঠীর বেশ কিছু সদস্য দাবি করেছেন, শুধু বিমাকে করমুক্ত করলেই হবে না সাধারণ মানুষ যাতে এর সুফল পায়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে ‘জনবিরোধী কর প্রত্যাহারের সাফল্য’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, জীবন ও স্বাস্থ্যবিমা মানুষের মৌলিক চাহিদার সঙ্গে জড়িত, তাই এই ক্ষেত্রে জিএসটি আদায় অনুচিত ছিল। অবশেষে বিরোধীদের ধারাবাহিক চাপেই সেই দাবি মেনে নিতে বাধ্য হল কেন্দ্র।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.