মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহুল আলোচিত স্লোগান ‘পরিবর্তন চাই’ এবার উঠে এল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখে। শুক্রবার কলকাতায় তিনটি নতুন মেট্রো প্রকল্পের উদ্বোধনে এসে মোদী বাংলাতেই ঘোষণা করেন— “তৃণমূল যাবে, পরিবর্তন হবে।” আর তার সঙ্গেই রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে তীব্র তরঙ্গ। সোনার বাংলার স্বপ্নকে এদিন তিনি নতুন রূপে পেশ করেন— বিজেপি ক্ষমতায় এলে নাকি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কল্পনার ‘বিকশিত বাংলা’ গড়ে তোলা হবে, মোদীর ভাষায়, “এটাই আমার গ্যারান্টি।”
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা সাফ জানিয়ে দেন, আগামী বিধানসভা ভোটে বিজেপি ৫০টির বেশি আসন ছুঁতেও পারবে না। তৃণমূল ভবন থেকে স্পষ্ট বার্তা— চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আর সেই জয় হবে রেকর্ড সংখ্যক আসনে।
এদিন মোদীর কর্মসূচি ছিল দুটি ধাপে— প্রথমে সরকারি মঞ্চে মেট্রো উদ্বোধন, তারপর দমদমে দলীয় সভা। ওই সভা থেকেই তিনি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ ও নারী সুরক্ষা— একাধিক ইস্যুতে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে শিক্ষা থেকে জমি— সর্বত্র দুর্নীতি বাড়ছে, নারীরা নিরাপদ নন। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলে উন্নয়নের পথ বন্ধই থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মোদীর দাবি, গত ১১ বছরে বিজেপি সরকার বাংলার জন্য ইউপিএ-র তুলনায় তিনগুণ বেশি অর্থ বরাদ্দ করেছে। কিন্তু সেই টাকা রাজ্যের শাসকদলের দুর্নীতির জালে লুট হয়েছে। আরও অভিযোগ, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দিয়ে তৃণমূল বাংলার যুবকদের কর্মসংস্থান কেড়ে নিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই অভিযোগকে ঘিরে তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণও ছিল যথেষ্ট জোরদার। রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ সরাসরি বলেন, “কাঁচের ঘরে বসে ঢিল ছুঁড়ছেন মোদী, কারণ তাঁরই মঞ্চে ছিলেন দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিরা।” মন্ত্রী শশী পাঁজা আরও একধাপ এগিয়ে কটাক্ষ করেন— বিজেপির ‘ওয়াশিং মেশিন’-এ ঢুকলেই অপরাধ ধুয়ে যায়। তিনি উল্লেখ করেন, তৃণমূল মহিলা সাংসদদের হেনস্তাকারী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টুকেও এদিন মোদীর পাশে মঞ্চে দেখা গেছে।







