ডুরান্ড কাপ থেকে হারের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই নতুন করে দলে ঢালাই শুরু করেছে মোহনবাগান। কারণ সামনে আরও বড় মঞ্চ—এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২। তাই বিদেশি শক্তি থেকে শুরু করে ডিফেন্স, সবেতেই বদল আনতে মরিয়া সবুজ-মেরুন শিবির। ঠিক সেই সময়েই মুম্বই সিটি থেকে আসছেন মেহতাব সিংহ। একই সঙ্গে দ্রুত সই করতে পারেন রবসন রোবিনহো। একসঙ্গে দুই ফুটবলার যোগ দিলে নিঃসন্দেহে কোচ হোসে মোলিনার ট্যাকটিক্যাল পরিকল্পনা আরও সুরক্ষিত হয়ে উঠবে।
মেহতাবকে নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল মরসুমের শুরুতেই। কিন্তু অভিষেক সিংহকে নিঃশব্দে সই করানোর পর অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো আর হচ্ছে না। শেষমেশ সেই জল্পনায় পূর্ণচ্ছেদ টানল মোহনবাগান। উল্লেখযোগ্য, পঞ্জাবের ডিফেন্ডার মেহতাবকে পেতে মোটা অঙ্ক খরচ করেছে ক্লাব। তাঁর আসাতেই রাইট-ব্যাক নিয়ে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তার সমাধান মিলল। কারণ আশিস রাইয়ের পারফরম্যান্স অনেক সময়েই প্রত্যাশা ছুঁতে পারেনি। ফলে প্রথম একাদশে মেহতাবই সেই জায়গা ধরে রাখবেন বলে মনে করা হচ্ছে। দরকারে তিনি সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসাবেও নামতে পারবেন।
অন্যদিকে রবসন রোবিনহো আসতে চলেছেন ষষ্ঠ বিদেশি হিসাবে। গত মরসুমের পাঁচজনকেই ধরে রেখেছে মোহনবাগান, তবে গ্রেগ স্টুয়ার্ট চলে যাওয়ায় সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই আনা হচ্ছে রবসনকে। ইস্টবেঙ্গলের কোচ অস্কার ব্রুজ়ো যখন বসুন্ধরা কিংসের দায়িত্বে ছিলেন, তখন তাঁর অধীনে খেলেছেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার। ব্রুজ়ো তাঁকে লাল-হলুদে আনতে চাইলেও শেষমেশ প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবেই আসছেন রবসন। ফলে আগামিদিনে ডার্বি ম্যাচে তাঁর উপস্থিতিই হতে পারে বাড়তি আকর্ষণ।
সব মিলিয়ে এই ডাবল সইয়ে মোলিনার হাতে বেড়ে যাচ্ছে বিকল্পের ভান্ডার। ডিফেন্স মজবুত হওয়ার পাশাপাশি আক্রমণে নতুন রূপকল্প আঁকার সুযোগ মিলছে। ডুরান্ড কাপ ব্যর্থতার পরে এই শক্তিবৃদ্ধি দলকে মানসিকভাবেও চাঙ্গা করবে। আর এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সাফল্যের রসদ জোগাতে পারবে বলেই আশাবাদী মোহনবাগান শিবির।







