আলিপুরদুয়ার, দুর্গাপুরের পরে এ বার দমদম— তিন মাসেরও কম সময়ে তিনবার বঙ্গ সফরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নজরে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। তবে তিনটি সভাতেই দেখা মেলেনি প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সভার সকালেই কলকাতা ছাড়লেও, শনিবার শহরে ফিরেই স্পষ্ট বার্তা দিলেন দিলীপ ঘোষ— “খুব শীঘ্রই স্বমহিমায় ফিরতে চলেছি।”
দলের ডাকে যুদ্ধে নামতে প্রস্তুত
প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ জানান, বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যই এখন তাঁর ক্যাপ্টেন। দলের নির্দেশ পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়তে তিনি প্রস্তুত। তাঁর কথায়—
“শমীক ভট্টাচার্যের উপর আস্থা আছে। তিনি সকলকে নিয়ে চলতে চাইছেন। আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, আমি তা পালন করব। আবার যদি বলে চুপ করে বসে থাকো, তাও করব। ভোট এলে ডাকবে, আমি যাব।”
ক্ষণিকের দূরত্ব, কিন্তু দলে ভাঙন নয়
দিলীপ ঘোষকে সাম্প্রতিক সময়ে দলের বড় কর্মসূচি থেকে দূরে রাখা নিয়ে জল্পনা চলছিল। শমীক ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে দায়িত্ব বদলের দিনেও ছিলেন না দিলীপবাবু। তবে পরে নিজে বিজেপি দফতরে গিয়ে দেখা করেন শমীকের সঙ্গে। সেই সময় শমীক মন্তব্য করেছিলেন—
“আমরা সবাই বিজেপি, আমাদের প্রতীক পদ্মফুল। ক্ষণিকের জন্য কোথাও ভুল হতে পারে, দূরত্ব তৈরি হতে পারে। কিন্তু এর মানে এই নয়, কেউ দলের বাইরে চলে গেছেন।”
মোদির ডাক, পরিবর্তনের লড়াই
কলকাতায় এসে ফের পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিজেপির লক্ষ্য— পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসা। সেই যুদ্ধে দলের নির্দেশ পেলেই সামনের সারিতে থাকার প্রস্তুতি নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ।
তৃণমূল অবশ্য কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। তাদের মতে, বিজেপির ভেতরে নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েনই এখন প্রকাশ্যে চলে আসছে। তবে দিলীপ ঘোষের প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত বিজেপির রাজ্য রাজনীতিকে নতুন মাত্রা দেবে, তা বলাই বাহুল্য।







