ভারতে নতুন অনলাইন গেমিং আইন কার্যকর হওয়ায় একদিকে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি, অন্যদিকে বিপাকে গোটা ক্রিকেটশিল্প। ‘ড্রিম ১১’, ‘মাই১১সার্কল’ কিংবা ‘এমপিএল’-এর মতো রিয়েল গেমিং অ্যাপ নিষিদ্ধ হওয়ায় আর্থিকভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ক্রিকেটাররাই। বিজ্ঞাপনী দুনিয়ায় যাঁদের উপস্থিতি এতদিন ব্র্যান্ড ভ্যালুর নিশ্চয়তা দিত, তাঁদের অনেককেই এখন কোটি কোটি টাকার চুক্তি হারাতে হবে। ফলে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ছে ক্রিকেট মাঠ থেকে শুরু করে বোর্ডরুম পর্যন্ত।
২০২৩ সালে ভারতীয় দলের মূল স্পনসর হিসাবে ‘ড্রিম ১১’ এবং আইপিএলের প্রধান স্পনসর হিসাবে ‘মাই১১সার্কল’ বোর্ডকে প্রায় ৯৮৩ কোটি টাকার আয় দিচ্ছিল। নতুন আইনে সেই সব চুক্তিই বাতিল হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ বোর্ডকে নতুন করে স্পনসর খুঁজতে হবে, যা এত বড় অঙ্কে পাওয়া সহজ হবে না। পাশাপাশি কলকাতা, লখনউ কিংবা হায়দরাবাদের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলিও বছরে কয়েকশো কোটি টাকার আয় হারাবে। ফলে শুধু জাতীয় স্তরে নয়, রাজ্য ও বেসরকারি লিগগুলোতেও আর্থিক সংকট দেখা দেবে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেলেন ক্রিকেটাররা। বিরাট কোহলি, ধোনি, রোহিত, বুমরাহ, শুভমন— প্রায় প্রত্যেকেরই এক বা একাধিক গেমিং সংস্থার সঙ্গে বিজ্ঞাপনী চুক্তি ছিল। কোহলি বছরে প্রায় ১০-১২ কোটি, ধোনি ৬-৭ কোটি এবং অনেকে ১ কোটি পর্যন্ত আয় করতেন। এই চুক্তি বাতিল হওয়ায় বার্ষিক ১৫০-২০০ কোটি টাকা হারাবেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। শীর্ষ তারকাদের তেমন ক্ষতি না হলেও, তরুণ ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে প্রায় পুরো উপার্জনই থমকে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গেমিং শিল্প বিজ্ঞাপন বাজারে প্রায় ৮-১০ হাজার কোটি টাকা ঢালত, যার ৭০-৮০ শতাংশ সরাসরি ক্রিকেটে। সেই উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামগ্রিকভাবে ক্রিকেটের আর্থিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। রাজস্ব ঘাটতি সামাল দেওয়া সরকারের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জ, তেমনি ক্রিকেটের অর্থনীতির জন্যও এটি এক গভীর সংকটের শুরু।







