উত্তর ২৪ পরগনার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী স্বরূপনগরের বালতি-নিত্যানন্দকাটি গ্রামে সরকারি ক্যাম্প চলাকালীন প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়লেন এলাকার তৃণমূল বিধায়ক বীণা মণ্ডল। স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় কর্মীদের ক্ষোভ গিয়ে পড়ে উপস্থিত জয়েন্ট বিডিওর উপরেও। অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ তাঁদের একটি ঘরে আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে বিধায়ক ও আধিকারিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার, গ্রাম পঞ্চায়েতের ১১৭ নম্বর বুথে আয়োজিত ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ ক্যাম্পে। সূত্রের খবর, ক্যাম্পের এক ঘরে প্রশাসনিক বৈঠক করছিলেন বিধায়ক বীণা মণ্ডল ও জয়েন্ট বিডিও। সেই সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অভিযোগ, ১৫ বছর ধরে বিধায়ক পদে থাকলেও তিনি এলাকার সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছেন। হঠাৎ ক্যাম্পে উপস্থিত হওয়ায় গ্রামবাসীরা তাঁকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন।
এ নিয়ে শুরু হয় তুমুল বচসা। স্থানীয় প্রধান সাবিকুর নাহারও ক্ষোভ প্রকাশ করেন জয়েন্ট বিডিও ও বিধায়কের বিরুদ্ধে। গ্রামবাসী ও উপভোক্তারা বিধায়ককে ঘরের ভেতরে আটকে রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন। পঞ্চায়েত প্রধানের পালটা অভিযোগ, বিধায়কের অনুগামীরা তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হেনস্তা করেছে। তাঁর জামা পর্যন্ত ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রধান সাবিকুর নাহার খাতুন জানান, “বিধায়ক আমাকে দেখে বলেন ‘তুই কে’? এরপরই বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। তিনি আমাকে গালাগাল দেন। পরে সিভিক ভলান্টিয়াররা আমাকে উদ্ধার করে। আমার জামাও ছিঁড়ে দেওয়া হয়। এই ব্যবহার মেনে নেওয়া যায় না।”
তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন স্বরূপনগরের তৃণমূল বিধায়ক বীণা মণ্ডল। তাঁর বক্তব্য, “পঞ্চায়েত প্রধান নিজেকে বড় নেত্রী ভাবছিলেন। আমার সঙ্গে কোনও গণ্ডগোল হয়নি। জয়েন্ট বিডিওর সঙ্গে তাঁদের ঝামেলা হয়েছিল।”
এ প্রসঙ্গে স্বরূপনগরের বিজেপি নেতা বৃন্দাবন সরকার বলেন, “তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল নতুন কিছু নয়। নিজেদের সমস্যা মেটাতে না পেরে এখন ক্যাম্পে মানুষের সামনে কাদা ছোড়াছুড়ি করছে। মানুষ এর জবাব দেবে ২০২৬-এর ভোটে।”
প্রশাসনিক ক্যাম্প থেকে শুরু হওয়া এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি ফের একবার প্রকাশ্যে আনল শাসক দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব।







