আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মৌসুমি অক্ষরেখা বর্তমানে বিকানের, কোটা, গুনা, দামোহ, পেন্দ্রা রোড, সংবলপুর, পুরী হয়ে বঙ্গোপসাগরের মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। এর জেরে বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল আর্দ্রতা প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গে সক্রিয় ছিল মৌসুমি বায়ু। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। দার্জিলিঙের সূর্যসেন মহাবিদ্যালয়ে ১৩ সেমি, জলপাইগুড়ির নওয়ারণুদি চা বাগানে ১২ সেমি এবং শিলিগুড়ি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে ১১ সেমি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গ
আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে অতি ভারী বৃষ্টির (৭-২০ সেমি) পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং ও কোচবিহারেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বজ্রবিদ্যুতের সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া (৩০-৪০ কিমি/ঘণ্টা) বইতে পারে।
৩০ আগস্ট (শনিবার): জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টি, বজ্রঝড় ও দমকা হাওয়ার আশঙ্কা।
৩১ আগস্ট: জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস।
১-৪ সেপ্টেম্বর: উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গ
হাওড়া ও হুগলিতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
৩০ ও ৩১ আগস্ট: দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে বজ্রঝড়-সহ বৃষ্টি সম্ভাবনা।
১-৪ সেপ্টেম্বর: দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
আজ কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া ও নদিয়ায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা (৭-১১ সেমি)। শনি ও রবিবারও দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে। তবে আপাতত দক্ষিণবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।
কলকাতা
শহরের আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। আজ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০.৮ ডিগ্রি (স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি কম) এবং সর্বনিম্ন ২৭ ডিগ্রি (স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বেশি)।
মৌসম ভবনের মতে, আগস্ট মাসে বৃষ্টি অনেকটাই বেশি হয়েছে। বর্ষার প্রভাব এখনও জারি আছে এবং সেপ্টেম্বর মাসেও তা বজায় থাকবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুজোর সময় বৃষ্টি হবে কি না তা এখনই বলা না গেলেও, বর্ষার ভ্রুকুটি বজায় থাকার সম্ভাবনা প্রবল।
উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে আগামী এক সপ্তাহ বৃষ্টি-ঝড়ের দাপটেই কাটতে চলেছে।






