নিজস্ব সংবাদদাতা: তিনিই দেশের মোস্ট ওয়ান্টেড গায়ক। একের পর এক হিট গান রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। কিন্তু তাঁর মন আর পা গেঁথে রয়েছে জিয়াগঞ্জের গ্রামের মাটিতে। যখনই সুযোগ পান, আলো ঝলমলে বিলাসহুল মুম্বই ছেড়ে অরিজিৎ চলে আসেন মুর্শিদাবাদের ছোট্ট গ্রাম জীয়াগঞ্জ-এ। বিশেষত ভালো কাজ চুপিসাড়েই করতে পছন্দ করেন তিনি, এমনই মানুষ অরিজিৎ।
নিজের ছেলেকেও ভর্তি করেছেন সেই গ্রামেরই স্কুলে। শুধু তাই নয়, নিজের গ্রামের উন্নতির জন্য খুলেছেন একটি স্পোকেন ইংলিশের স্কুল। যাতে সকলেই ভালোভাবে ইংরেজি শিখতে পারে। নিজের গ্রামকে শিক্ষিত করতেই এমন উদ্যোগ তাঁর। তাঁর এই স্কুলে ধনী-গরিবের কোনো ভেদাভেদ নেই, সকলেই সমান।
সম্প্রতি তিনি আরও একটি উদ্যোগ নিয়েছেন নিজের গ্রামের জন্য। সাধারণ মানুষের জন্য খুলেছেন একটি রেঁস্তোরা। যেখানে খুব কম টাকায় খাবার পাওয়া যাবে। রেঁস্তোরা শুনেই ভাবছেন কোনও পাঁচতারা হোটেল। না এমনটা নয়, এখানে মাত্র ৩০ টাকাতেই পাওয়া যাবে খাবার।
জিয়াগঞ্জের এই ‘হেঁশেল’ এক সময় অরিজিৎ সিংয়ের বাবা কাক্কা শিং চালাতেন। কিন্তু সম্প্রতি এই হোটেলের দায়িত্ব নিয়েছেন অরিজিৎ নিজেই। হোটেলটি বাইরে থেকে দেখতে খুব সাধারণ হলেও, খাবারের মান এবং দাম এক কথায় অসাধারণ। এখানে থালির দাম শুরু হচ্ছে মাত্র ৩০ টাকা থেকে। এছাড়াও পাওয়া যাবে, চিকেন, মাটন, পনিরের নানান রেসিপি। শুধু তাই নয়; মিলবে তন্দুরি, টিক্কা, কাবাব আর মোগলাই খানার রকমারি সম্ভার। তবে দাম কিন্ত একেবারে সাধারণের নাগালেই। হেঁশেল-এ রয়েছে পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ ছাড়। সোম থেকে শনিবার পড়ুয়াদের পরিবেশন করা হয় ৩০ টাকার ভেজ থালি। বর্তমানে মেনু তালিকা বাড়িয়ে ভেজ থালি ৪০ টাকা করা হয়েছে। পড়ুয়াদের মধ্যে পার্সেলের ব্যবস্থাও রয়েছে।
হেঁশেলের পরিষেবা মন জয় করেছে সবার। অরিজিৎ সিংয়ের মতোই তাঁর রেস্তোরাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছোট থেকে বড় সকলেই।







