ফের চিকিৎসা বিজ্ঞানের দুনিয়ায় বিরল এক সাফল্য অর্জন করল এসএসকেএম পিজি হাসপাতাল। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার ৩৭ বছর বয়সী এক মহিলা হাসপাতালে পেটে ব্যাথা নিয়ে ভর্তি হন । একাধিক উপসর্গ থাকায় বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা যায় প্যানক্রিয়াসের মাথা থেকে প্রায় ২ কেজিরও বেশি ওজনের এক বিশাল টিউমার মহিলার পেটে অবস্থান করেছে। এই টিউমারের দৈর্ঘ্য ছিল ২০ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ প্রায় ১৬ সেন্টিমিটার। চিকিৎসার ভাষায়, এটিকে সলিড সিউডোপ্যাপিলারি এপিথেলিয়াল নিওপ্ল্যাজম প্যানক্রিয়াস অথবা এসপিইএন বলা হয়। যত দিন যায় রোগীর শারীরিক অবস্থা তত অবনতির দিকে যায়। তাই দেরী না করে ১২ তারিখ গ্যাসট্রোইন্টেস্টিনাল সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক তুহিনশুভ্র মণ্ডলের নেতৃত্বে প্রায় ১০ ঘণ্টার একটি অস্ত্রোপচার হয়। দলে ছিলেন গ্যাসট্রোইন্টেস্টিনাল বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ সুমন দাস, ডাঃ হিমাভ সাহা, ডাঃ স্বপ্নিল সেন। অ্যানাস্থেসিয়ার ডাঃ (অধ্যাপক) তাপস ঘোষ, ডাঃ সৈকত ভট্টাচার্য, ডাঃ দিব্যেন্দু গড়াই।
চিকিৎসকদের মতে, এত বড় আকারের টিউমার কেটে বাদ দেওয়ার নজির বাংলা তো বটেই, গোটা দেশেই বিরল। বিশ্বেও এমন ঘটনা হাতে গোনা কয়েকটি।
চিকিৎসক তুহিনশুভ্র মণ্ডল জানিয়েছেন, “রোগিণীর জীবন বাঁচানোই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এই অস্ত্রোপচারে প্রাণসংকটের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি থাকে। তবে আমাদের গোটা দল মিলে সফলভাবে এই বিরল অপারেশন সম্পন্ন করতে পেরেছে। বাংলার সরকারি হাসপাতালে এমন সাফল্য আমাদের গর্বিত করেছে।” অস্ত্রোপচারের পর আপাতত স্থিতিশীল রয়েছেন রোগিণী। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যানক্রিয়াসে SPEN ধরনের টিউমার সাধারণত মধ্যবয়সী মহিলাদের শরীরে বেশি দেখা গেলেও যেকোনও বয়সে, এমনকি পুরুষদের ক্ষেত্রেও হতে পারে। তবে এই টিউমারের আকার ও ওজন রেকর্ড গড়েছে বলেই মত চিকিৎসকদের একাংশের।







