রুশ মাটিতে ফের ভয়াবহ আঘাত হানল ইউক্রেন। একসঙ্গে ৩৬১টি ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেনীয় সেনা। নিশানা করা হয় রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম কিরিশি তেল শোধনাগারকে। এই শোধনাগারই রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদনের ৬.৪ শতাংশ সরবরাহ করে। ফলে হামলাকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় প্রত্যাঘাত বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।
রাশিয়ার লেনিনগ্রাদ প্রদেশের গভর্নর আলেকজান্ডার দ্রোজডেনকো জানান, হামলার কিছু ড্রোন ধ্বংস করা গেলেও শোধনাগারে আগুন লেগে যায়। তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দাবি করেছে, ইউক্রেনের একাধিক ড্রোন, আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য বোমা এবং একটি মার্কিন তৈরি হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্রও ধ্বংস করা হয়েছে। তবে হতাহতের কোনও খবর নেই।
অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় সেনার তরফে হামলার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে রাতের অন্ধকারে শোধনাগারে ভয়ংকর আগুন জ্বলতে দেখা যায়। সামরিক সূত্রের দাবি, হামলায় কিরিশির উৎপাদন ক্ষমতায় বড় ধাক্কা লেগেছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কিনছে বলেই মস্কোর যুদ্ধযন্ত্র সচল রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দিল্লির কারণে যুদ্ধ থামানো যাচ্ছে না। ন্যাটো দেশগুলির প্রতি ট্রাম্পের আবেদন, রাশিয়ার পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে হবে।
ভারত অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। নয়াদিল্লির পাল্টা বক্তব্য, রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রেতা ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আমেরিকাও রুশ জ্বালানি আমদানি করে। ফলে চাপ সৃষ্টি করতে গিয়ে শুধুমাত্র ভারতের দিকে আঙুল তোলা অন্যায়।
ভূ-রাজনীতির অগ্নিগর্ভ আবহ
প্রায় আড়াই বছর ধরে চলা রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিপথ এখনও অধরাই। একদিকে ইউক্রেনীয় সেনার ড্রোন হামলায় রুশ জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে রাশিয়ার পাল্টা আক্রমণে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। ফলে যুদ্ধ আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে।







