রাজনীতি

ইথানল পেট্রোল বিতর্কে গড়কড়ীর বিস্ফোরক দাবি: “আমার মাথার দাম ২০০ কোটি টাকা”

নাগপুর: ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ী এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগের মাঝেই ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি। রবিবার নাগপুরে Agricos Welfare Society-র এক সভায় গড়কড়ী বলেন,
“প্রতি মাসের হিসেবে আমার মাথার দাম ২০০ কোটি টাকা। টাকার অভাব নেই আমার। জালিয়াতি করি না, সৎ পথে রোজগার করতে জানি।”

ছেলেদের বিরুদ্ধে লাভবান হওয়ার অভিযোগ
বিরোধীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে, যাতে গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে এবং খরচও বাড়ছে। অথচ এই ব্যবসা থেকে বিপুল মুনাফা করছেন গড়কড়ীর দুই ছেলে। একদিকে নিখিল গড়কড়ীর Cian Agro Industries, অন্যদিকে সারং গড়কড়ীর Manda Agro Industries— উভয় সংস্থাই ইথানল সরবরাহ করে।

কংগ্রেস নেতা পবন খেরা সংবাদমাধ্যমে নথি পেশ করে অভিযোগ করেন,

২০২৪ সালের জুনে Cian Agro-র মুনাফা ছিল ১৮ কোটি টাকা।

মাত্র এক বছরের মধ্যে, ২০২৫ সালের জুনে মুনাফা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২৩ কোটি টাকা।

এ বছরের জানুয়ারিতে সংস্থার শেয়ারদর ছিল ৩৭.৪৫ টাকা। অগস্টে তা ২১৮৪% বৃদ্ধি পেয়ে ৬৩৮ টাকায় পৌঁছয়।

খেরার কটাক্ষ, “সাধারণ মানুষের মজুরি বাড়ছে না, অথচ গড়কড়ীর ছেলের সংস্থার বৃদ্ধি রোখা যাচ্ছে না।”

গড়কড়ীর পাল্টা সাফাই
তবে অভিযোগ খারিজ করে গড়কড়ীর দাবি, তাঁর পরিবার ব্যবসায় স্বচ্ছভাবে যুক্ত।
“আমার ছেলে ইরান থেকে ৮০০ কন্টেনার আপেল এনেছে, আর বদলে ১০০০ কন্টেনার কলা পাঠিয়েছে। ইরানের সঙ্গে টাকার লেনদেনই হয় না। কৃষি বা ব্যবসা থেকে আমি ব্যক্তিগত লাভ নিচ্ছি না। কৃষক, ছোট ব্যবসায়ীদের উন্নতির জন্য কাজ করছি।”

তিনি আরও জানান, নাগপুর জুড়ে সবজি বিক্রেতাদের জন্য ফ্রুট মল খোলার পরিকল্পনার পরামর্শও তিনি দিয়েছেন।
“আমার যথেষ্ট রোজগার আছে। নিজের স্বার্থে এসব করছি না।”

পরিবেশ ও জলের খরচ নিয়ে প্রশ্ন
পরিবেশ রক্ষার যুক্তি দেখিয়ে সরকার ইথানল মিশ্রণের পক্ষে সওয়াল করলেও, বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন— এক লিটার ইথানল উৎপাদনে প্রায় ৩,০০০ লিটার জল লাগে। ফলে এর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

রাজনৈতিক নিশানা নাকি বাস্তব দুর্নীতি?
গড়কড়ীর দাবি, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, “কিছু লোক টাকা খেয়ে অপপ্রচার করছে।”
তবে ইথানল মিশ্রণ নিয়ে স্বজনপোষণ, ব্যবসায় অস্বাভাবিক মুনাফা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত খরচ নিয়ে বিতর্ক এখন চরমে।

এই বিতর্ক যে আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.