ভারতীয় ক্রিকেটের এক প্রান্তে ঝলমলে গ্ল্যামার, অন্য প্রান্তে বাস্তবতার সরল স্বর। আর এই দুইয়ের সংঘাত যেন ফুটে উঠল বরুণ চক্রবর্তীর মুখে। নাম না করেও হার্দিক পাণ্ডিয়ার বিলাসবহুল ঘড়ির প্রসঙ্গে কেকেআর তারকা এমন মন্তব্য করেছেন যা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ২০ কোটি টাকার রিচার্ড মিল ঘড়ি হাতে দেখা গিয়েছিল হার্দিককে, আর সেই ঝলক নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
বরুণের কথায়, অর্থের মূল্য তিনি খুব কাছ থেকে বুঝেছেন। “আমি মধ্যবিত্ত মানসিকতার মানুষ। অভাব কাকে বলে, জানি। তাই অকারণে টাকার অপচয় করতে পারি না,” স্বীকারোক্তি তাঁর। তিনি বলেন, “৩ লক্ষ টাকার ঘড়ি একবার কিনেছিলাম। কিন্তু পরে মনে হয়েছিল, এ তো আমার নীতির সঙ্গে যায় না। সেই ঘড়ি আজও আলমারিতে পড়ে আছে।”
ভারতীয় এই স্পিনার আরও বলেন, “যাদের সঙ্গে আমি বড় হয়েছি, তারা কেউ খাবার ডেলিভারি দেয়, কেউ সাধারণ চাকরি করে। তাদের সামনে এত দামি ঘড়ি পরে যাওয়া মানে যেন তাদের অসম্মান করা।” তাঁর এই বক্তব্যে ফুটে উঠেছে বিনয়, সামাজিক সচেতনতা এবং মাটির টান, যা আজকের ক্রিকেট দুনিয়ায় বিরল।
যেখানে কেউ স্টাইল ও বিলাসিতাকে সফলতার প্রতীক মনে করেন, সেখানে বরুণের বক্তব্য এক অন্য দৃষ্টিভঙ্গি দেয়—যেখানে সম্পদ নয়, সংবেদনশীলতাই আসল মাপকাঠি। তাঁর এই বক্তব্য যেন স্মরণ করিয়ে দেয়, প্রকৃত ‘ক্লাস’ কেবল দামী ঘড়িতে নয়, বরং সরল মনোভাবেই লুকিয়ে থাকে।







