গঙ্গার ঘটে , ট্রলি বন্দী মৃতদেহ ফেলতে গিয়ে , সন্দেহজনক ভাবে পাকড়াও করা হয়েছিল মা ও মেয়েকে। ঘটনাটি ঘটেছিলো চলতি বছরেরই ফেব্রুয়ারি মাসে। পরে , তদন্ত করে জানা গিয়েছিলো , ধৃত দুজন সম্পর্কে মা ও মেয়ে এবং ট্রলিতে ছিল পিসি শাশুড়ির দেহ। এবার সেই কাঁদে শেষ হলো বিচার প্রক্রিয়া। প্রমান হলো সোনা ও সম্পত্তির লোভেই খুন করা হয়েছিল পিসি শাশুড়িকে। দোষী সাব্যস্ত ধৃত মা ও মেয়ে। জানা গিয়ে , আগামী সোমবার শোনানো হবে , এই মামলার চূড়ান্ত রায়। বারাসত আদালতের সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা কোর্টের বিচারক প্রজ্ঞাগার্গী ভট্টাচার্য (হুসেন) এই রায় শোনাবেন।
চলতি বছরেরই ফেব্রুয়ারি মাসে , কলকাতায় , গঙ্গার ঘাটে ট্রলিতে করে মৃতদেহ ফেলতে গিয়ে কলকাতার উত্তর বন্দর থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন অভিযুক্ত মা ও মেয়ে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে , মৃতদেহটি ছিল পিসি শাশুড়ি সুমিতা ঘোষের। বিবাহ বিচ্ছেদের পর , সুমিতা অসমে ভাইয়ের বাড়িতেই থাকতেন। সুমিতার ভাইপোর সাথে বিয়ে হয় দোষী সাব্যস্ত মেয়ে অর্থাৎ ফাল্গুনী ঘোষের। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই , ফাল্গুনী শশুরবাড়িতে ঝামেলা করে , মা এর কাছে চলে আসে। মধ্যমগ্রামের দক্ষিণ বীরেশপল্লী এলাকায় , একটি বইতে ভাড়া থাকতেন মা ও মেয়ে।
তবে , ফাল্গুনী এবং সুমিতার মধ্যে তখন যোগাযোগ ছিল। ফেব্রুয়ারি মাসেই , অসম থেকে কলকাতায় , বোনের বাড়ি আসে সুমিতা। সেদিন ফাল্গুনীর কথায় শিয়ালদহ থেকে মধ্যমগ্রামেও আসেন সুমিতা। এমনকি , মধ্যমগ্রামে , পিসি শাশুড়ির ভাঙা সংসার জোড়া লাগানোর কথাও হয়। এমনকি তারা মিলে পিসি শাশুড়ি সুমিতার প্রাক্তন স্বামীর বাড়িও যান। তারপরেই ফিরে এসে , তাদের মধ্যে হয় অশান্তি। ওই অশান্তির মধ্যেই , ফাল্গুনী , ভারী কিছু দিয়ে , পিসি শাশুড়ি , সুমিতার মাথায় আঘাত করে। সুমিতা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে , ফাল্গুনী ও তার মা মিলে শ্বাসরোধ করে খুন করে তাকে। তারপরেই , ধারালো বটি দিয়ে সুমিতার ধরে থেকে মাথা আলাদা করে দেয় তারা। তারপর সুমিতার দেহ থেকে , গয়না খুলে , সেই গয়না বিক্রিও করে দেয় । তারপর নিহত পিসি শাশুড়ির নাম বিল করে সোনার দোকানে গয়নার অর্ডার দিয়েছিলো ফাল্গুনী , এমনকি সুমিতার ফোন থেকে টাকা পেমেন্টও করেছিল।
এরপরই বাড়ি ফিরে , হাতুড়ি দিয়ে সুমিতার পা ভেঙে , তাকে ট্রলি বন্দী করে ফাল্গুনী ও তার মা । ২৫ ফেব্রয়ারি সকাল সকাল সুমিতার দেহ , ফেলতে গিয়েই ধরা পরে যায় মা ও মেয়ে। এই ঘটনায় , সরকার পক্ষের আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন , “আমরা দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তি চেয়েছিলাম। মা ও মেয়ে দু’জনকেই দোষী সাব্যস্ত করেছেন বিচারক।”







