গুজরাটের কচ্ছ জেলার ভুজ শহরে ঘটল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মাত্র ২০ বছরের এক যুবকের প্রাণ গেল নিছক অভিমানে। মৃত যুবকের নাম রুস্তম শেখ, বাড়ি ঝাড়খণ্ডে। স্থানীয়ভাবে শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে ভুজের আশাপুরা হিল এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন রুস্তম বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন। তিনি বাবার কাছে একটি দামি স্মার্টফোন কেনার দাবি জানান। রুস্তমের ইচ্ছা ছিল ইএমআই-এ ফোনটি কিনে দিয়ে দেওয়া হোক। কিন্তু রুস্তমের বাবা সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। ফোন না কেনায় মনোক্ষুণ্ণ হয়ে রুস্তম আচমকাই কাজের জায়গা থেকে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পরই তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টার সময় স্থানীয়রা ১৪০ ফুট গভীর একটি কুয়োয় রুস্তমকে পড়ে থাকতে দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় দমকল ও পুলিশকে। পৌঁছনোর পর শুরু হয় দীর্ঘ উদ্ধারঅভিযান। প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে দমকলের প্রায় ১৫ জন কর্মী, এনডিআরএফ-এর সদস্য এবং স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা কুয়োর ভিতরে রুস্তমের অবস্থান নির্ণয় করে উদ্ধারকাজ চালান। নিচে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে পাইপলাইন ব্যবহার করা হয়, উপর থেকে ক্যামেরায় নজর রাখা হয় তার অবস্থার ওপর।
অবশেষে ভোর তিনটে নাগাদ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও রুস্তমকে কুয়ো থেকে তুলতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। তাঁকে তড়িঘড়ি অ্যাম্বুল্যান্সে করে ভুজের জিকে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকেরা জানান, ততক্ষণে রুস্তমের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান—দামি ফোন কিনে দিতে বাবা রাজি না হওয়াতেই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রুস্তম। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া। পুলিশের তরফে তদন্ত চলছে।







