উৎসবের মরসুম শুরুর আগেই রক্তস্নাত দক্ষিণ আফ্রিকা। বড়দিনের ঠিক আগেই জোহানেসবার্গের একটি পানশালার বাইরে ভয়াবহ এক হামলায় অন্তত ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। রবিবার ভোরের দিকে হওয়া এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডে আরও ১০ জন গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনাটি সিডনির বন্ডি বিচের সেই বীভৎস স্মৃতিকে আবারও উসকে দিল।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জোহানেসবার্গ থেকে কিছুটা দূরে সোনার খনি সমৃদ্ধ এলাকা বেকারসডালে এই ঘটনাটি ঘটে। ঘড়িতে তখন রাত একটা। হঠাৎই প্রায় ডজনখানেক সশস্ত্র আততায়ী সেই পানশালার সামনে হাজির হয়ে অতর্কিতে গুলিবর্ষণ শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা এতটাই বেপরোয়া ছিল যে সামনে যাকে পেয়েছে তাকেই লক্ষ্য করে ট্রিগার টিপেছে। রাস্তার ওপর লুটিয়ে পড়েন একাধিক সাধারণ মানুষ। নিহতদের মধ্যে একজন অ্যাপ-ক্যাব চালকও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অপরাধের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এর আগে প্রিটোরিয়াতেও একদল বন্দুকবাজের হামলায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের ধারণা, অবৈধ সোনা পাচার এবং অপরাধ জগতের অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের জেরেই বারবার এমন রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটছে। যদিও সেখানে বন্দুকের লাইসেন্স পাওয়ার আইন যথেষ্ট কড়া, তবুও চোরাপথে আসা বেআইনি অস্ত্রের দাপট প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঠিক গত রবিবার সিডনির বন্ডি বিচে ‘হানুকা’ উৎসবের জমায়েতে একইভাবে গুলিবর্ষণ করা হয়েছিল। সেখানে বাবা ও ছেলে মিলে ১৬ জনকে খুন করেছিল। সেই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে মহিলা ও শিশুরাও ছিল। তদন্তে জানা গিয়েছিল, ওই দুই আততায়ী স্রেফ শখের বশে শিকার করার নাম করে বন্দুকের লাইসেন্স জোগাড়ের চেষ্টা করছিল। জোহানেসবার্গের এই হামলা যেন সেই নৃশংসতারই পুনরাবৃত্তি। অপরাধীদের ধরতে এবং এই হামলার আসল উদ্দেশ্য জানতে ইতিমধ্যেই বড় মাপের তদন্ত শুরু করেছে সে দেশের পুলিশ।







