বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী শ্রমিকদের উপর বারংবার হেনস্থার ঘটনা বারংবার সামনে এসেছে। যা নিয়ে ক্রমশ বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। কোথাও আটকে রাখা, কোথাও মারধর কিংবা অপমান—পশ্চিমবঙ্গ থেকে কর্মসূত্রে বাইরে যাওয়া বহু শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের প্রতি এমন আচরণের অভিযোগ উঠে আসছে বারবার। এবার এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব শিল্পীরা।
সম্প্রতি বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলাভাষীদের হেনস্থার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি তিনি বার্তা দিয়েছেন, বাংলাভাষী মানুষদের উপর যেভাবে অত্যাচার ও বৈষম্য চলছে। এবার এই হেনসস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সুর মিলিয়েছেন কলকাতার প্রথম সারির শিল্পীরা। তারমধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী রূপঙ্কর বাগচী, অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মমতা শঙ্কর, অভিনেতা কৌশিক সেন ও অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন রুদ্রনীল ঘোষ। বাংলাভাষীদের উপর হেনস্থার বিষয়টি রাজ্য রাজনীতিতে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে তা বলাই বাহুল্য।
এ প্রসঙ্গে গায়ক রূপঙ্কর বাগচী জানিয়েছেন, “দুঃখজনক ঘটনা। একেবারেই কাম্য নয়। যাঁরা এই ঘটনা ঘটাচ্ছেন, তাঁদের তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি। আর যাঁরা এই পরিস্থিতির শিকার, তাঁদের জন্য আমার সহানুভূতি রয়েছে। নিজে একজন বাঙালি। এই ভাষা নিয়েই কাজ করি। যাঁরা এই ভাষায় কথা বলছেন, তাঁদের সঙ্গে এই ঘটনা খুবই অনভিপ্রেত।”
এ প্রসঙ্গে মমতাশঙ্কর জানিয়েছেন, ”বাংলা আমার মাতৃভাষা। আমি বাংলা ভাষায় কথা বলতে ভালবাসি। তাই অনেক বৈঠকে বা সম্মেলনে আমি বাংলাতেই কথা বলেছি বা বলি। কিন্তু বিদেশি অভ্যাগতেরা এলে তাঁদের জন্য বিদেশি ভাষার শরণ নিতেই হবে। একই ভাবে বিদেশে গেলে আমি ইংরেজিতে কথা বলতে বাধ্য। যেমন, প্যারিসে গিয়ে বাংলায় কথা বলা অযৌক্তিক। নিজের দেশে অন্য ভাষাভাষীদের সঙ্গে হিন্দিতে কথা বলার চেষ্টা করব। তার জন্য প্রতিবাদ, মারামারি বা খারাপ ভাষার প্রয়োগ কোনও দিন করব না।”
এ প্রসঙ্গে অভিনেতা কৌশিক সেন জানিয়েছেন, ‘দলমতনির্বিশেষে এই বিষয় নিয়ে ভাবা উচিত। যাঁরা আক্রান্ত হচ্ছেন তাঁরা সবাই খেটে খাওয়া মানুষ। আমরা বাঙালি না বাংলাদেশি, তা বলার জন্য আমাদের কাছে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। কিন্তু যাঁদের সঙ্গে এই ঘটনা ঘটছে তাঁরা প্রত্যেকে গরিব মানুষ। তাঁদের অনেকের কাছে সঠিক নথিও নেই। বেশির ভাগ মানুষই পেটের টানে ভিন্রাজ্যে গিয়ে কাজ করেন। তাঁদের সঙ্গে ঘটা ঘটনা খুবই দুঃখজনক এবং চিন্তার।’
এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী জানিয়েছেন, “এই পরিস্থিতি একেবারেই কাম্য নয়। মাতৃভাষা আমার প্রাণে। তা বলার জন্য যদি নির্বাসনে পাঠানো হয় বা শাস্তি দেওয়া হয়, তা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। প্রতিবাদ হওয়া খুবই দরকার। সব রাজনৈতিক দলেরই উদ্যোগী হওয়া উচিত, যাতে বাঙালিরা রাজ্যের বাইরে গিয়েও সুরক্ষিত বোধ করতে পারেন। চারপাশে যে কী ঘটছে বুঝতে পারছি না।”
এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ জানিয়েছেন, “বাংলাদেশিদের লাগাতার ভোটার এবং আধার কার্ড পাইয়ে দিয়েছেন তিনি, তা সবার জানা। মুর্শিদাবাদ, মালদহ থেকেই তো বাংলাদেশিদের ভুয়ো ভোটার আর আধার কার্ড করিয়ে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েতের লোকজন তো ধরা পড়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে যে লুটের রাজত্ব মুখ্যমন্ত্রী কায়েম করেছেন, তাতে এ রাজ্যের গরিব বাঙালিরা ভিন্রাজ্যে কাজ করতে গিয়েছেন। পড়াশোনা কম জানা বাংলাদেশি, যাঁদের বাংলার শ্রমিকদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মিশিয়ে দিয়েছেন। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে যাঁরা ধরা পড়ছেন, তাঁরা তৃণমূল দলের সাহায্যে ও পার বাংলা থেকে এসে ভারতীয় ভোটার বা আধার কার্ড পাওয়া লোক। দিল্লি হাই কোর্ট স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, এদের তাড়াতে হবে। মমতা যে ঘৃণ্য রাজনীতি করছেন তাতে দেশের সার্বভৌমত্ব নষ্ট হচ্ছে।”







