ভাইরাল হওয়া বিতর্কিত ভিডিও নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, ভিডিওটি ভুয়ো এবং তাঁর নয়। বদনাম করতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই ভিডিও ছড়ানো হয়েছে বলেই অভিযোগ তাঁর। শনিবার দিল্লির পাশাপাশি কলকাতার লালবাজার সাইবার ক্রাইম শাখায় লিখিত অভিযোগ জানান দিলীপ। তদন্তের দাবি জানিয়ে জয়েন্ট কমিশনার (ক্রাইম)-কে চিঠিও দিয়েছেন তিনি।
ঘনিষ্ঠ মহলের সূত্রে খবর, দিলীপ ঘোষ বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও জানিয়েছেন ফোনে। তিনি নাকি স্পষ্ট বলেছেন, “এটা আমার ভিডিও নয়। ফরেনসিকে পাঠান। এই নোংরামির শেষ হওয়া দরকার।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ইতিমধ্যেই ভিডিওটি ফরেনসিকে পাঠিয়েছে বলেও খবর।
রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ
লিখিত অভিযোগে দিলীপ ঘোষ দাবি করেছেন, তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করতেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী তাঁকে বদনাম করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কারা এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে রয়েছেন, তা চিহ্নিত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
দলীয় কর্মসূচিতেও স্পষ্ট বার্তা
শনিবার সন্ধ্যায় খড়গপুরের একটি দলীয় কর্মসূচিতেও এই ইস্যুতে মুখ খোলেন দিলীপ। বলেন, “পুরুষ চরিত্রের সঙ্গে আমার নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এটা আমার ব্যক্তিচরিত্র হননের চেষ্টা। গত কয়েক মাস ধরেই আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “এটা রাজনীতির শেষ অস্ত্র। আগে আমাদের পার্টির বহু নেতার বিরুদ্ধে এমন হয়েছে। সঞ্জয় যোশী, এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে এক সন্ন্যাসীর বিরুদ্ধেও এমন চক্রান্ত হয়েছে। সেগুলি সবই পরে ভুয়ো প্রমাণিত হয়েছে। আমার ক্ষেত্রেও ফরেনসিক টেস্টে সব পরিস্কার হবে।”
‘আইনই শেষ ভরসা’
রাজনীতির এই ‘নিচস্তরের’ চক্রান্তের বিরুদ্ধে আইন-আদালতের দ্বারেই শেষ ভরসা বলেই জানিয়ে দিলীপ বলেন, “আমার বিরুদ্ধে কে কতটা টাকা খরচ করছে, কে ছড়াচ্ছে সব খবর আমার কাছে আছে। আমি শেষ দেখে ছাড়ব। এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমি লড়ব, আইনের পথে।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়। তবে দিলীপ ঘোষের সাফ বার্তা— “চক্রান্তকারীরা রেহাই পাবে না।”







