বিদেশ

লালনের দিনে নতুন অধ্যায়, রবীন্দ্র-নজরুলের বাইরে ভাবছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশে লালন ফকিরের প্রয়াণ দিবসকে এ বার থেকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে। পরবর্তী সময়ে সামাজিক মাধ্যমে বিশদ পোস্ট করে বিষয়টি জানান বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, লালনকে জাতীয় মর্যাদা দেওয়ার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ নতুন সাংস্কৃতিক দিশা খুঁজতে শুরু করেছে।

ফারুকী জানান, দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশে এক ধরনের সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিরাজ করায় লালনের গানকে ভদ্রসমাজ কখনও উচ্চমার্গের শিল্প হিসেবে মেনে নেয়নি। একই প্রসঙ্গে তিনি প্রয়াত সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর নাম উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন, তাঁদের অবদানও যথাযথ মর্যাদা পায়নি। তাঁর মতে, লালনের প্রয়াণ দিবসকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালন আসলে রবীন্দ্র-নজরুলের চেনা পরিসর থেকে বেরিয়ে এক নতুন পথচলা।

অন্তর্বর্তী সরকারের করণীয় সম্পর্কেও মত দেন ফারুকী। তাঁর মতে, শেখ হাসিনার পতনের পর যে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, সেখানে রাষ্ট্রের দায়িত্ব— গত পাঁচ দশকে সাধারণ মানুষের চর্চা ও অংশগ্রহণে যে সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক মান অর্জন করেছে, সেটিকে সম্মান ও উদ্‌যাপন করা। তবেই বাংলাদেশ আরও আত্মবিশ্বাসী ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি হয়ে উঠবে। তিনি সমসাময়িক শিল্পীদের অবদানকে মূল সাংস্কৃতিক প্রবাহে স্থান দেওয়ার কথাও জোর দিয়ে বলেন।

তবে মনে রাখা দরকার, এ বছরের শুরুতেই মৌলবাদী গোষ্ঠীর বাধায় টাঙ্গাইলে লালন স্মরণোৎসব বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, লালনের গান মৌলবাদী মতাদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় অনুষ্ঠান থামিয়ে দেওয়া হয়। সেই ঘটনার পর দেশ-বিদেশে নিন্দার ঝড় উঠেছিল। সেই প্রেক্ষিতেই এ বার লালনের প্রয়াণ দিবসকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণার পদক্ষেপকে অনেকে প্রতীকী ও সাহসী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।

প্রসঙ্গত, ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর কুষ্টিয়ার আখড়ায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন লালন ফকির।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.