দুর্গাপুজোর মরশুমে শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ। কিন্তু তার মাঝেই বেনজির বিতর্ক ঘিরে ফেলল কলকাতার অন্যতম চর্চিত পুজো, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার সর্বজনীন দুর্গোৎসব। পঞ্চমীতে সামনে এল রাজনৈতিক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি।
বিজেপি কাউন্সিলর তথা পুজোর উদ্যোক্তা সজল ঘোষ সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, পুজো বন্ধ করে দেওয়ার জন্য পুলিশের “চক্রান্ত” চলছে। তাঁর দাবি, এ বছরের থিম অপারেশন সিঁদুর অনেকের সহ্য হয়নি, আর তাই পুলিশ ইচ্ছে করেই বাধা তৈরি করছে। সজল ঘোষের কথায়,
“যাতে একটা দুর্ঘটনা ঘটে যায় এবং তারপর আমাদের পুজো কমিটিকে দোষী সাব্যস্ত করা যায়, সেই জন্য ছক কষা হয়েছে। ধাপে ধাপে চক্রান্ত এগোচ্ছে। আমরা অসহযোগিতা নয়, চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন,
“৪০ ফুটের রাস্তাকে গার্ডরেল দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ১৫ ফুট রাস্তা দিয়ে মানুষকে ঠেলে ঢোকানো হচ্ছে। যেখানে ৭০০ মিটার হাঁটলেই মাঠে পৌঁছনো যেত, সেখানে মানুষকে ৩-৩.৫ কিলোমিটার ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুলিশ এতটাই প্রতিহিংসাপরায়ণ যে, স্থানীয় সিভিক ভলান্টিয়ারদেরও বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার সজল ঘোষের অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, জনসাধারণের সুরক্ষার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। কমিশনার বলেন,
“সবাই যাতে নিয়ম মেনে চলে, সেটাই দেখা হচ্ছে। ক্রাউড ম্যানেজমেন্ট শুধু প্যান্ডেলভিত্তিক নয়, প্রবেশ ও প্রস্থানের রাস্তাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রচুর ভিড় হলে রিফেল এফেক্ট তৈরি হয়, সেই কারণেই সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই কাজ করছে পুলিশ। আমাদের একটাই চিন্তা, পাবলিকের সেফটি।”
প্রসঙ্গত, এর আগে কলকাতা পুলিশ চারবার চিঠি পাঠিয়েছিল সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজো উদ্যোক্তাদের কাছে। সেই নিয়েই চাপানউতোর চলছিল এতদিন। এবার সরাসরি বিজেপি নেতার চক্রান্তের অভিযোগ ও হুঁশিয়ারি ঘিরে রাজনৈতিক পারদ চড়ল সপ্তমে।







