নিজস্ব সংবাদদাতা : বাংলায় এক প্রবাদ বাক্য আছে, “ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়” । ঠিক তাই সংসারের হাল টানার পাশাপাশি থেমে থাকেনি ইচ্ছা শক্তি । এমনটাই প্রমান করে দিলেন বছর আটত্রিশের লতিকা মণ্ডল । উচ্চমাধ্যমিকের সফল কৃতীদের ভিড়ে আলাদা করে নজর কেড়ে নিয়েছেন তিনি । আর্থিক অনটনে এক সময় আটকে গিয়েছিল তাঁর ইচ্ছা। কিন্তু দাঁতে-দাঁত চাপা জেদ ও অদম্য উৎসাহে কার্যত অসাধ্যসাধন করলেন তিনি । সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষপর্যন্ত ছেলের সঙ্গে বসেছিলেন পরীক্ষায়। আর ছেলের মতোই উচ্চমাধ্যমিকে ভাল ফল করে পাশও করলেন মা। ছেলে সৌরভ মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর মাও বসেছিলেন এবারের পরীক্ষায়। সফলভাবে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন দু’জনেই।
নদিয়ার শান্তিপুরের নতুন সর্দারপাড়ার বাসিন্দা লতিকা । প্রায় ২০ বছর আগে শান্তিপুরের নৃসিংহপুরের অসীম মণ্ডলের সঙ্গে বিয়ে হয় ধুবুলিয়ার বাসিন্দা লতিকার । বাপের বাড়ির আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভাল ছিল না । আভাব-অনটনের মধ্যে লতিকার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেনি। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তে পড়তেই স্কুলছুট হতে হয়েছিল। কিছু দিন পর বিয়ে এবং তারপর সংসার। স্বামী দিনমজুর। সংসারে আভাব-অনটনের মধ্যে ছেলে-মেয়েকে বড় করার মধ্যেও লতিকাকে বার বার টানত বই । তাঁর ইচ্ছে শুনে মাকে উৎসাহ দিয়েছিলেন ছেলে। তারপর রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যান লতিকা। ২০২০ সালে মাধ্যমিকে ভালই ফলাফল হয়েছিল । আর মেয়ে তখন স্কুলের গণ্ডি পার করে কলেজের পথে। ২০২১ সালে নৃসিংহপুর হাই স্কুলে একাদশ শ্রেণিতে কলা বিভাগে ভর্তি হন লতিকা। আর ছেলে সৌরভ ভর্তি হন পূর্ব বর্ধমানের কালনা মহারাজা হাই স্কুলে। এবার একই সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিক দিয়েছিলেন মা এবং ছেলে। যেখানে মা পেয়েছেন ৩২৪, আর ছেলের ২৮৪ নম্বর। পরীক্ষায় পাশ করে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ইচ্ছাপূরণ করতে পারলেও মা লতিকার মন অবশ্য কিছুটা হলেও খারাপ। কারন ছেলের থেকে মোট নম্বরের ভিত্তিতে ৪০ নম্বর বেশি পেয়েছেন তিনি । সুত্রের খবর, ফল বেরোনোর পর মায়ের বলেছেন , ‘ফলটা উল্টো হলে খুশি হতাম।’অন্যদিকে, মাকে বরাবর যে সৌরভ উৎসাহ দিয়ে আসছেন , সেই ছেলে সৌরভ বলেছেন , ‘হেরেও আমিই জিতেছি।’







