জেলারাজনীতি

কল্যাণী এইমসে অস্থায়ী নিয়োগে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, বিজেপি বিধায়কদের মধ্যে তীব্র সংঘাত

নিজস্ব সংবাদদাতা, কল্যাণী: অস্থায়ী হাউসকিপিং কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ফেটে পড়ল বিজেপি। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে কল্যাণী এইমস। যেখানে অস্থায়ী ভিত্তিতে সর্বাধিক একশো জন কর্মী নিয়োগের কথা, সেখানে নেতৃত্বের আশীর্বাদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার দৌড়ে এখন একেবারে চরমে উত্তেজনা।

ঘটনার সূত্রপাত কল্যাণী বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায় এবং হরিণঘাটার বিধায়ক অসীম সরকার-এর মধ্যে সরাসরি বিরোধকে ঘিরে। জানা গিয়েছে, এইমসের অস্থায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিজেপির ছয়জন বিধায়ককে তিনটি করে কোটা দেওয়া হয়, তৃণমূল কংগ্রেসকে দশটি এবং আইএসএফকে তিনটি। কিন্তু অভিযোগ, অম্বিকা রায় সেই নিয়ম মানেননি, বরং কর্তৃপক্ষকে হুমকি দেন যে, তাঁকে ৩০ জন নিয়োগের কোটা দিতে হবে — নচেৎ নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখতে হবে।

এরপরেই মঙ্গলবার দুপুরে এইমসের প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করতে হাজির হন বিজেপির আরও ছয় বিধায়ক—অসীম সরকার, অশোক কীর্তনীয়া, সুব্রত ঠাকুর, স্বপন মজুমদার, পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অসীম বিশ্বাস। দীর্ঘ আলোচনার পর তাঁরা লিখিতভাবে বিষয়টি অম্বিকা রায়কে জানিয়ে দেন।

সংবাদমাধ্যমের সামনে অসীম সরকার তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সফরের সময় কাউকে না জানিয়ে অম্বিকা রায় ৩০ জনকে এখানে কাজে লাগিয়েছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন, এমন অভিযোগও উঠেছে। এমনকি তাঁদের হাতে দেওয়া হয়েছিল ভুবনেশ্বর এইমসের আইডি কার্ড! প্রশ্ন হচ্ছে, অম্বিকা রায় এই কার্ড পেলেন কোথা থেকে?”

অসীমের কটাক্ষ, “ভুবনেশ্বরের আইডি কার্ড দিয়ে কল্যাণীতে কাজ করানো মানে তো স্পষ্ট অনিয়ম। কোনও অধিকার ছাড়াই উনি কীভাবে ৩০ জনকে নিয়োগের দাবি জানাচ্ছেন?”

অভিযোগের মুখে মুখ খোলেননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা উপস্থিত অন্য বিধায়করা। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অম্বিকা রায়। তাঁর বক্তব্য, “আমার বিরুদ্ধে যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা প্রমাণ করুক অসীম সরকার। আমি বিষয়টি দলের উচ্চ নেতৃত্বকে জানিয়েছি, নেতৃত্বই সিদ্ধান্ত নেবে।”

এই ইস্যুতে তৃণমূলের কটাক্ষ, “বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এখন হাসপাতালের দেওয়াল পেরিয়ে গিয়েছে।” রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দেবাশীস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “অসীম সরকার এখন ব্লগ ওভারে এসে দুর্দান্ত ব্যাট করছেন— কখনও CAA নিয়ে, কখনও দুর্নীতি নিয়ে। এখন নিজেদের দলে দুর্নীতির বলই মারছেন।”

রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতিতে যেখানে বারবার তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলেছে বিজেপি, সেখানে নিজেদের গোষ্ঠীকলহে কল্যাণী এইমস এখন গেরুয়া শিবিরের নতুন মাথাব্যথা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.