জাপানের টোকিওয় ফের একবার ভারত-পাকিস্তান প্রসঙ্গে মুখ খুলে বিতর্কের ঝড় তুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দাবি করলেন, তাঁর কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক কৌশলেই থেমে গিয়েছিল ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধ পরিস্থিতি। শুধু তাই নয়, গত আট মাসে আটটি যুদ্ধ থামিয়ে গোটা বিশ্বের ‘উপকার’ করেছেন বলেও ঘোষণা করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের কথায়, “যুদ্ধ থামাতে আমি শুল্ককেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছি। ভারত ও পাকিস্তানকে দেখুন! ওরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। সাতটি যুদ্ধবিমান নামানো হয়েছিল, একেবারে ব্র্যান্ড নিউ, বিউটিফুল যুদ্ধবিমান!”
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, শেষ পর্যন্ত শুল্কনীতি ও বাণিজ্যচুক্তি নিয়েই ভারত ও পাকিস্তান পিছু হটে। তিনি বলেন, “দুই দেশই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একজন ভালো মানুষ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও তাই। আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিই—এভাবে চললে কোনও বাণিজ্যচুক্তি হবে না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সব শেষ হয়ে যায়।”
ট্রাম্প আরও বলেন, “গত আট মাসে আমি আটটি যুদ্ধ থামিয়েছি। মস্তিষ্ক খাটিয়ে নয়, ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রেই শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছি। না হলে আগামী ১০ বছর ধরে হয়তো একাধিক দেশ যুদ্ধে লিপ্ত থাকত। আমি পৃথিবীর উপকার করেছি—না হলে চারিদিকে পরমাণু অস্ত্রের ধুলো উড়ত।”
উল্লেখ্য, জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলার পর ভারতীয় বাহিনী পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গিঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানে। পরিস্থিতি ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উপমহাদেশজুড়ে। সেই সময়ই ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন বলে দাবি করেন তিনি নিজেই।
তবে নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট—যুদ্ধবিরতিতে কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ছিল না। ভারতের মতে, ইসলামাবাদ ও নয়া দিল্লি নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই অস্ত্রবিরতির সিদ্ধান্ত নেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নির্বাচনের প্রাক্কালে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নিজের ভূমিকাকে জোরালোভাবে তুলে ধরতে চাচ্ছেন ট্রাম্প। তবে ভারতের তরফে তাঁর এই দাবি কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।







