পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ—স্টেট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার বা SIR প্রক্রিয়া। কিন্তু প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই নানা প্রশ্ন ঘুরছে সাধারণ মানুষের মনে। কেউ জানেন না কীভাবে ফর্ম পূরণ করতে হবে, আবার কেউ নিশ্চিত নন, তাঁর নাম আদৌ থাকবে কি না।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী দফতর জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই বুথ লেভেল অফিসার বা BLO-রা ঘরে ঘরে এনুমারেশন ফর্ম পৌঁছে দিচ্ছেন। কিন্তু কাজের প্রথম দিন থেকেই উঠে আসছে একের পর এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা। কোথাও দেখা যাচ্ছে ভুল তথ্য, কোথাও বা মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় থেকে গিয়েছে। আবার BLO-রাই বলছেন, অনেক প্রশ্নের উত্তর তাঁদের কাছেও স্পষ্ট নয়।
একজন BLO, কমলকুমার দাস, জানিয়েছেন—“যেদিন নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আমাদের ট্রেনিং হয়, সেদিন মিটিং শেষ হওয়ার আগেই ERO মঞ্চ ছেড়ে চলে যান। ফলে অনেক প্রশ্নের উত্তরই আমরা পাইনি। কেউ মারা গেছেন জেনে রাখি, কিন্তু বাড়ির লোক বলছেন উনি অন্যত্র আছেন—এই ধরনের বিভ্রান্তি ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে।”
এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও অনিশ্চয়তা প্রবল। বরানগরের বাসিন্দা মহুয়া বসু বলছেন, “আমার বাবা সরকারি চাকরি করতেন, মা পেনশনার। বাবা মারা গেছেন গতবছর। কিন্তু তালিকায় কে থাকবে, কে বাদ যাবে—তা নিয়ে আমরা নিশ্চিত নই। ২০০২ সালের হিসেব ধরে কাজ হচ্ছে শুনেছি, তাই আরও ভয় লাগছে।”
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নির্বাচন কমিশনের আরও সক্রিয় প্রচার ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন ছিল। যেহেতু এই প্রক্রিয়া শেষবার হয়েছিল ২০০২ সালে—২৩ বছর আগে—তাই এবার অনেকেই প্রথমবারের মতো SIR-এর মুখোমুখি। তাঁদের মতে, আগে থেকে যদি আরও স্পষ্ট প্রচার ও সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হত, তবে এই বিভ্রান্তি কম হত।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে—এত গুরুত্বপূর্ণ একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের প্রস্তুতি কতটা পর্যাপ্ত ছিল? সাধারণ মানুষ ও BLO—দু’পক্ষেরই যখন সংশয় রয়েছে, তখন কি নির্বাচন কমিশনকে আরও স্বচ্ছ ও পরিষ্কার উদ্যোগ নিতে হবে না? এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে রাজ্যজুড়ে।







