নিয়োগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে পথে-ঘাটে লড়াইয়ের ইতিহাস লিখেছিলেন তাঁরা। বৃষ্টি-রোদ, দিন-রাত এক করে করুণাময়ী থেকে বিকাশ ভবন—যেখানে প্রতিবাদ, সেখানেই দেখা মিলত তাঁদের নেতৃত্বের ছায়া। শনিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত হল একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষকদের নতুন নিয়োগ প্যানেলের ইন্টারভিউ তালিকা। প্রায় ২০ হাজার অধিক প্রার্থী উত্তীর্ণ। বহু চাকরিহারা শিক্ষক আবার দেখতে পেলেন আলোর ক্ষীণ দিশা।
কিন্তু যাঁদের কাঁধে ভর করে এই আন্দোলন পথ দেখেছিল—আজ তাঁদের অবস্থা কেমন?
চিন্ময় মণ্ডল: তিন নম্বরের জন্য থমকাল পুনরায় স্বপ্ন
আন্দোলনের অন্যতম মুখ চিন্ময় মণ্ডল এই তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেননি। দিল্লি-কলকাতা দৌড়ানো, দিন-রাতের লড়াই—সবই আছে তাঁর সংগ্রহে। তবুও শনিবারের তালিকা তাঁকে ফের হতাশ করল।
চিন্ময়ের কথায়, “আশানুরূপ ফল হয়নি। তিন নম্বরের জন্য কাট-অফ পেরতে পারলাম না। তবে নবম-দশম এখনও বাকি—দেখি কী হয়।”
সুমন বিশ্বাস: নেই নাম, তবুও সংশয়ের চেয়ে বেশি উদ্বেগ
চাকরিহারা শিক্ষক সুমন বিশ্বাসের নামও নেই তালিকায়। তবে তিনি মন খারাপের চেয়ে বেশি চিন্তিত অন্যদের জন্য।
তিনি বলেন, “আমি নবম-দশমের শিক্ষক ছিলাম। নাম আসেনি মানছি। কিন্তু এই তালিকায় বহু যোগ্য শিক্ষকের নাম নেই। নতুন-পুরনোদের মিশিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটাকেই জটিল করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি ৬০-এ ৬০ পেয়েও কেউ ডাক পাননি—এটা অস্বাভাবিক।”
মেহবুব মণ্ডল: ভেরিফিকেশনের ডাক পেলেও পাশে দাঁড়ালেন অন্যদের
আন্দোলনের আর এক পরিচিত মুখ মেহবুব মণ্ডলের নাম উঠেছে তালিকায়। ভেরিফিকেশনের ডাকও পেয়েছেন তিনি। তবুও নিজের সাফল্যের চেয়ে বেশি উচ্চারিত তাঁর উদ্বেগ—বহু যোগ্য শিক্ষক এখনও তালিকার বাইরে।
মেহবুবের প্রতিক্রিয়া, “সাত বছর চাকরি করার পরও অনেক শিক্ষক নিজের জায়গা দখল করতে পারলেন না। আমরা ২৪ ঘণ্টা আন্দোলন করেছি। কিন্তু অনেকের নম্বর পর্যাপ্ত হয়নি। রাজ্যের উচিত তাঁদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা—কেউ যেন কর্মহীন না হন।”
সঙ্গীতা সাহা: পাশ করেও নেই উৎসব, শুধু ক্ষত-বিক্ষত প্রশ্ন
তালিকায় নাম উঠেছে সঙ্গীতা সাহারও। তবে উত্তরণেও উচ্ছ্বাস নেই, বরং মিশে আছে ব্যথা।
তিনি বলেন, “বিনা দোষে অসম পরীক্ষায় বসতে হল। আমাদের অপরাধ ছিল না, তবুও এই অবস্থায় ঠেলে দেওয়া হল। অনেক ঘনিষ্ঠ মানুষ কাট-অফ ক্লিয়ার করতে পারেননি। তাঁদের ভবিষ্যতের কথা কি রাজ্য ভেবে দেখবে?”
একদিকে নতুন তালিকা নিয়ে রাজ্যের স্বচ্ছতার দাবি, অন্যদিকে আন্দোলনের সামনের সারির যোদ্ধাদের হতাশ মুখ।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার নতুন দিশা কি সত্যিই আলো আনছে? নাকি পুরনো ক্ষতের মাঝেই আরও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে?
উত্তর এখনও মেলেনি।
কিন্তু রাজ্যের হাজারো শিক্ষকের চোখ এখন শুধু একটাই দিকে—ন্যায়বিচারের প্রতীক্ষায়।







