ভারতীয় ক্রিকেটে বৈভব সূর্যবংশীর মতো নতুন প্রতিভার উত্থান যখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক তখনই আরও এক উদীয়মান তারকার উজ্জ্বল উপস্থিতি নজর কাড়ছে সকলের। কর্নাটকের তরুণ ব্যাটার রবিচন্দ্রন স্মরণ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে একের পর এক বড় ইনিংস খেলে দেশের ক্রিকেট মহলে তৈরি করেছেন তুমুল সাড়া। রনজি ট্রফিতে চণ্ডীগড়ের বিরুদ্ধে তার দৃষ্টিনন্দন অপরাজিত ২২৭ রানের ডাবল সেঞ্চুরি আবারও নতুন করে তুলে ধরল তার প্রতিভার গভীরতা।
চলতি মরশুমে এটি স্মরণের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি, আর ক্যারিয়ারের মাত্র ১৩তম ম্যাচে তৃতীয়! কর্নাটকের দীর্ঘদিনের ‘রান মেশিন’ ঐতিহ্যকে যেন আরও দৃঢ় করে তুলছেন এই তরুণ ব্যাটার। স্মরণকে কেন্দ্র করেই কর্নাটক প্রথম ইনিংসে ৫৪৭/৮ রানে ইনিংস ঘোষণা করে।
চাপে শুরু, স্মরণের ব্যাটে পাল্টে গেল গল্প
ইনিংসের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো—মাত্র ১৩ রানে দুই উইকেট পড়ে যায়। কিন্তু উইকেটকিপার কৃষ্ণন শ্রীজিত এবং করুণ নায়ারের ব্যাটে প্রথম স্থিতি পান দল। এরপর নায়ার ও স্মরণ মিলে গুরুত্বপূর্ণ ১১৯ রানের জুটি গড়ে ম্যাচটি কর্নাটকের দিকে ঘোরান।
মাঝে আবারও দ্রুত উইকেট পড়ে চাপ বাড়লেও স্মরণ ও শ্রেয়াস গোপালের ষষ্ঠ উইকেটে ১৪১ রানের পার্টনারশিপ ম্যাচে দলের নিয়ন্ত্রণ স্থায়ী করে দেয়।
গোপাল আউট হওয়ার পর স্মরণ থামেননি। বিদ্যাধর পাটিলের সঙ্গে ৭৬ এবং শিখর শেঠির সঙ্গে ১১১ রানের অষ্টম উইকেট জুটি দলকে পৌঁছে দেয় পাহাড়সম স্কোরে। ১৬টি চার ও দুটি ছক্কায় স্মরণের ২২৭ রানের ইনিংস রনজির চলতি মরশুমের অন্যতম সেরা।
১৩ ম্যাচেই তিন তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি—অসাধারণ ধারাবাহিকতা
প্রথম শ্রেণির মোট রান: ১,১৭৯
গড়: ৭৮.৬
সেঞ্চুরি: ৪ (এর মধ্যে ৩টিই ডাবল)
চলতি রনজি মরশুমে রান: ৫৯৫, গড়: ১১৯
এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়—স্মরণ শুধু বড় ইনিংস খেলেন না, নিয়মিতই খেলেন।
কর্ণাটকের ভবিষ্যতের ভরসা
আন্ডার–১৪ স্তর থেকেই কর্নাটকার হয়ে খেলা স্মরণ রাজ্যের ক্রিকেট কাঠামোর পরিচিত মুখ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার ধারাবাহিকতা, লিস্ট–এ ক্রিকেটে সমান উজ্জ্বল পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে তিনি এখন কর্নাটকের ভবিষ্যৎ ব্যাটিং স্তম্ভ হয়ে উঠছেন।
ভারতীয় ক্রিকেটে পরের তারকা ব্যাটার কে—এই আলোচনায় এখন দৃঢ়ভাবে উঠে এসেছে নতুন নাম: রবিচন্দ্রন স্মরণ।
বৈভব সূর্যবংশীর মতোই ভারতের ব্যাটিং ভবিষ্যৎকে যেন নতুন দিগন্ত দেখাচ্ছেন কর্নাটকের এই ‘বিগ ইনিংস স্পেশালিস্ট’।







